ট্রফি বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক তরজা, মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর নকভিকে কড়া আক্রমণ অমিত মালব্যের

এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানোর পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ায় যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক তরজায় রূপ নিয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন এবং মহসিন নকভিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
অমিত মালব্যের কড়া আক্রমণ
বিজেপির তথ্য ও প্রযুক্তি সেলের জাতীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত মালব্য সরাসরি মহসিন নকভিকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রধান প্রচারক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“ভারতীয় ক্রিকেটাররা ট্রফি ও পদক গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন কারণ এসিসি প্রধান পদে আছেন মহসিন নকভি। তিনি আবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রধান প্রচারক এই নকভি। আমরা কেবল পাকিস্তানকে মাঠেই হারাইনি, বরং নকভিকে তাঁর আসল জায়গায় বসিয়েছি। এবং নকভি এই ট্রফি দেওয়ার জন্য জেদ ধরে বসেছিলেন।”
মালব্যের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ভারতীয় দলের এই বয়কট কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তা ছিল রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি কৌশল।
মোদী-নকভির সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ
এই বিতর্কের শুরু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট থেকে। সাধারণত ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিপক্ষকে নিয়ে মোদী কোনো মন্তব্য না করলেও, এই এশিয়া কাপ ফাইনাল ছিল ব্যতিক্রম। তিনি পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে লেখেন:
“মাঠে অপারেশন সিঁদুর। ফলাফল সবসময় একই হয় – ভারত জিতে যায়। আমাদের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন।”
মোদী যখন পাকিস্তানকে ‘রোস্ট’ করেন, তখন নকভিও নীরব থাকেননি। মোদীর এই পোস্টের জবাবে মহসিন নকভি লেখেন:
“যদি যুদ্ধ আপনার গর্ববোধের পরিমাপ ছিল, তাহলে ইতিহাসের পাতায় পাকিস্তানের কাছে আপনাদের হার ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। কোনও ক্রিকেট ম্যাচ সেই সত্যকে বদলাতে পারবে না। যুদ্ধকে খেলায় টেনে নিয়ে এসে আপনাদের হতাশা ফুটে উঠছে এবং খেলার স্পিরিটের প্রতি তা অসম্মানজনক।”
বিজেপি নেতারা অবশ্য মনে করছেন, নকভির এই ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম’-এর কথা বলাটা ভণ্ডামি। কারণ, নকভি এর আগে নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টে ভারতের যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার দাবি করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।