পাণ্ডুয়ার গ্রামীণ পুজোয় বাজল চিনা ঢাক! নাড়ু পাকিয়ে আরতিতে অংশ নিল ১০ সদস্যের চিন হাইকমিশন প্রতিনিধি দল

দুর্গাপূজা শুধু বাংলার উৎসব নয়, এর ব্যাপ্তি যে বিশ্বজোড়া—তা ফের একবার প্রমাণ হলো হুগলির এক গ্রামীণ মণ্ডপে। কলকাতা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে পাণ্ডুয়ার ভুঁইপাড়া বারোয়ারি দুর্গাপুজো কমিটি-তে মহাষষ্ঠীর সকালে হাজির হলো চিন হাইকমিশন অফিসের ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল।
চিন থেকে গ্রামীণ বাংলায় উমার আগমনী
চাইনিজ কনস্যুলেট কলকাতার ডেপুটি কনসাল জেনারেল কুইং ইয়ং-এর নেতৃত্বে এই চিনা নাগরিকরা গ্রামীণ পুজোর আনন্দে যোগ দেন। চিনা অতিথিদের স্বাগত জানাতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। ফুল ও চন্দনের ফোঁটা দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় এলাকার কচিকাঁচারা।
এরপর অতিথিরা সরাসরি পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন। তাঁরা শুধু দর্শক হয়ে থাকেননি, অংশ নিয়েছেন উৎসবের প্রতিটি কাজে।
ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে—
আলপনা আঁকা,
নাড়ু পাকানো এবং
মা দুর্গার সামনে আরতিতেও অংশ নেন তাঁরা।
এছাড়াও, অতিথিদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় শিশুদের তৈরি মাটির প্রতিমা ও আঁকা ছবি।
‘চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতা’ কুইং ইয়ং-এর
ডেপুটি কনসাল জেনারেল কুইং ইয়ং নিজেই ঢাক বাজিয়ে এবং নাড়ু পাকিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখানকার পরিবেশ, পুজোর আচার-অনুষ্ঠান এবং মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপূজায় নাড়ু একটি বিশেষ খাবার, প্রথমবার তা নিজে তৈরি করতে পেরে খুব ভাল লাগল। ঢাকও বাজালাম। গ্রামীণ দুর্গোৎসবের এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিদেশি অতিথিদের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণে স্থানীয় বাসিন্দারা আপ্লুত। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের এই আবহে গোটা গ্রামের উৎসবের রং বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।