পশ্চিমবঙ্গে ডিএ মামলার রায় অমীমাংসিত! তার মধ্যেই ত্রিপুরায় ৩% ডিএ বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় কর্মীদের সঙ্গে ব্যবধান কমল ১৯ শতাংশে

যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর শোনালো প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরা। দুর্গাপূজার ঠিক আগে ৩ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

ত্রিপুরা সরকারের ‘পুজোর উপহার’
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বিধানসভার শেষ অধিবেশনে এই ঘোষণা করেন। তার এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রায় ১,০০,০০০ কর্মচারী এবং ৮৪,০০০ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। এই বর্ধিত ডিএ এবং ডিআর (Dearness Relief) আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

মানিক সাহা বলেন, “আমাদের সরকার জনগণের সরকার। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে আমি বার্তা দিয়েছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ৩% বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের কর্মীদের এখনকার মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশে পৌঁছল।”

তিনি আরও জানান, ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের কোষাগারে ২৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের সরকার কর্মীদের বেতন এবং পেনশন পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন করেছে এবং ১ অক্টোবর, ২০১৮ থেকে সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ডিএ-র ফারাক: কেন্দ্রীয় ও দুই রাজ্যে
ত্রিপুরায় এই ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ হল ৩৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্ত ডিএ বর্তমানে ৫৫ শতাংশ। দীপাবলির আগেই সেটি ৩-৪ শতাংশ বেড়ে ৫৮-৫৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে। এই বৃদ্ধির ফলে ত্রিপুরার কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখন ১৯ শতাংশে নেমে এল।

পশ্চিমবঙ্গে ডিএ মামলার রায় ঘিরে অনিশ্চয়তা
যখন পার্শ্ববর্তী রাজ্য তার কর্মীদের জন্য ডিএ বৃদ্ধির উপহার দিচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখনও বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতার জন্য আদালতের রায়ের অপেক্ষায়। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের দায়ের করা মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে শেষ হলেও, রায়দান এখনও বাকি। পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের ফল কোন দিকে যায়, সেই দিকেই এখন সকলের নজর।

পশ্চিমবঙ্গ ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য আপনি কি অপেক্ষায় আছেন? আপনার কী মনে হয়, আদালতের রায় রাজ্যের কর্মীদের পক্ষে যাবে?