‘মা এলো রে পুতুলের ঘরে’, মালদহের বালুচর কল্যাণ সমিতির মণ্ডপে ফিরল শৈশবের স্মৃতি, থিম এবার বিলুপ্তপ্রায় ‘কাঠপুতুল’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার মালদহ শহরের একটি মণ্ডপে প্রবেশ করলেই ফিরে পাওয়া যাবে শৈশবের নস্টালজিয়া এবং বাংলার ঐতিহ্য। মালদহ শহরের বালুচর কল্যাণ সমিতির ৫৯ তম বর্ষের দুর্গাপূজার থিম হলো ‘মা এলো রে পুতুলের ঘরে’। এই থিমে বিলুপ্তপ্রায় কাঠপুতুলের গুরুত্বকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

মণ্ডপসজ্জায় হাজারো কাঠপুতুল
পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই থিমের মণ্ডপসজ্জায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার কাঠপুতুল সাজানো হয়েছে।

সংগ্রহ: ক্লাব সম্পাদক অমিতাভ শেঠ জানান, এই ঐতিহ্যবাহী কাঠপুতুলগুলি বিশেষভাবে নবদ্বীপ থেকে আনা হয়েছে।

সাজসজ্জা: মণ্ডপসজ্জা শিল্পী নীলাঞ্জন সিংহ জানান, মায়ের সাবেকি মূর্তির চারপাশে এই কাঠপুতুলগুলি সাজানো হয়েছে। এই পুতুলগুলিতে পেঁচা, দেব-দেবী, লোককথা, কিংবদন্তি এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মতো একাধিক ছবি ফুটে উঠেছে।

সাধারণত দক্ষিণবঙ্গের রাস উৎসবের মেলায় এই সৌভাগ্যের প্রতীক কাঠপুতুল দেখা যায়। কিন্তু আধুনিক প্লাস্টিক জাতীয় উপকরণের কাছে এটি এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায় শিল্প।

থিমের বাজেট ও পরিবেশ বার্তা
এই বছর প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা বাজেটে এই পুজোর থিম তৈরি হচ্ছে। কাঠপুতুলের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি, এই থিমের ভাবনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও রয়েছে। ক্লাব সম্পাদক জানান:

“মূলত প্লাস্টিক বর্জনের বার্তা দিতেই এই থিমের ভাবনা। প্লাস্টিক বর্জন হলে সমাজে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুস্থ থাকবে।”

পুজো উদ্যোক্তারা আশাবাদী, বিলুপ্তপ্রায় কাঠপুতুল নিয়ে তৈরি এই বিশেষ থিমটি দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়বে এবং তাদের শৈশবের স্মৃতি চাঙ্গা করে তুলবে।