জিএসটির সাফল্য নিয়ে ফের মুখ খুললেন মোদী, শার্টের দামে কর ৬৭ টাকা কমে ৩৫! কীভাবে নিম্নবিত্ত সমাজ উপকৃত?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার লখনউয়ে উত্তর প্রদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শো’য়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জিএসটি (GST)-র সাফল্য দাবি করতে গিয়ে বক্তৃতার অনেকটা সময় ব্যয় করলেন। তিনি জিএসটি হারের সাম্প্রতিক সংস্কারের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শার্টের দামের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন।
কর হ্রাসের ‘শার্ট অঙ্ক’
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষ কীভাবে নতুন জিএসটি হার চালুর ফলে উপকৃত হয়েছেন, তার দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে একটি শার্টের দামের তুলনা করেন:
সময়কাল করের ব্যবস্থা ১০০০ টাকার শার্টে কর করের হার হ্রাস
২০১৪ সালের আগে ভ্যাট (VAT) এবং অন্যান্য একাধিক কর ১১৭ টাকা –
২০১৬ সালে জিএসটি চালুর পর একক জিএসটি ৫০ টাকা ৬৭ টাকা কমেছিল
সাম্প্রতিক সংস্কারের পর নয়া জিএসটি হার ৩৫ টাকা –
Export to Sheets
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থায় একটি পণ্যের যতবার হাতবদল হত, ততবারই কর যুক্ত হত, যা জিএসটি চালুর পর বাতিল হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জিএসটি সংস্কারের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে।
জিএসটির কৃতিত্ব দাবি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর
প্রধানমন্ত্রী বিগত কয়েকদিন ধরেই জিএসটির হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন।
কেন্দ্রের দাবি: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কলকাতায় এসে বলে গিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই নয়া জিএসটির হার উৎসবের মরসুমে বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে জিএসটি কাউন্সিলে নতুন হার চূড়ান্ত হওয়ার পরদিনই কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রীর ছবি সহ বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে এর কৃতিত্ব দাবি করেছিল।
রাজ্যের দাবি: অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও জিএসটির হার হ্রাসে রাজ্যের তরফে আগাম প্রস্তাব পেশ করার কথা বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছে।
যদিও রাজনৈতিক মহলের মত, জিএসটির বিষয়ে এককভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। জিএসটি কাউন্সিলের সদস্য রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীরা, এবং তাদের মতামত ছাড়া কেন্দ্রের অগ্রসর হওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না।
জেন-জি-কে বার্তা দেওয়ার কৌশল
অনেকেই মনে করছেন, লখনউয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জিএসটির হার কমানোর কৃতিত্ব দাবি করে শার্টের দামে কর হ্রাসের প্রসঙ্গ উত্থাপনে ‘জেন জি অঙ্ক’ কাজ করেছে।
সারা দেশে উৎসব শুরু হওয়ায় এই সময় তরুণ সমাজ তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে জামা-কাপড় কেনাকাটা করে। প্রধানমন্ত্রী তাদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন জিএসটির হার কমানোর ফলে কীভাবে তাদের কেনাকাটা সহজ হয়েছে।
এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের গণ-অভ্যুত্থানে জেন-জি’র অন্যতম ইস্যু ছিল জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম। লাদাখ আন্দোলনেও জেন জি সামনের সারিতে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তাঁর সরকার ভারতে জিনিসপত্রের দাম নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সংবেদনশীল।