হিন্দু বিবাহ আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ: ‘কন্যাদান’-এর পর সম্পত্তি কার? কেন স্বামীর পরিবারের হাতে যাবে উত্তরাধিকার?

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, হিন্দু মতে বিয়ে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনও মেয়ের গোত্র পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে কোনও স্বামীহারা নিঃসন্তান মহিলার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন স্বামীর পরিবারের সদস্যরা, বাপেরবাড়ির কেউ সেই সম্পত্তির ভাগ পাবেন না।

একটি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের একমাত্র মহিলা বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক মন্তব্য করে।

‘কন্যাদান’ প্রথা ও গোত্র পরিবর্তনের ব্যাখ্যা
বিচারপতি বিভি নাগরত্ন বলেন, হিন্দু সমাজে ‘কন্যাদান’ নামে একটি প্রথা চালু আছে। যখন কোনও মেয়েকে তাঁর বাবা বা পরিবারের কোনও আত্মীয় স্বামীর হাতে সমর্পণ করে দেন, তখন তাঁর গোত্রও পরিবর্তিত হয়।

আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গোত্র হল সাধারণ উত্তরাধিকার পরিচয় ও বংশ মর্যাদা। হাজার হাজার বছর ধরে সমাজে এই প্রথা চালু আছে এবং আদালত তা ভেঙে দেওয়ার কোনও ইচ্ছা রাখে না। বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, বিয়ের পর হিন্দু শাস্ত্র মতে ওই মেয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে স্বামী ও তাঁর পরিবারের হাতে সমর্পণ করে দেন পিতা।

কেন সম্পত্তি শ্বশুরবাড়ির হাতে যাবে?
শীর্ষ আদালতের কাছে এরকম ভূরিভূরি আবেদন এসেছে যেখানে নিঃসন্তান হিন্দু স্বামীহারা মহিলার সম্পত্তির ওয়ারিশ কে হবেন— এই প্রশ্নটি সামনে আসে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, যদি তিনি উইল না করে যান, তবে তাঁর সম্পত্তির ভোগদখল স্বামীর পরিবারের (শ্বশুরবাড়ির) হস্তগত হয়, বাপেরবাড়ির কেউ পান না।

এদিন আইনজীবী যখন এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ সমস্যা নিয়ে আদালতে আর্জি জানান, তখন বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, বিয়ের প্রথা অনুসারে, বিশেষত দক্ষিণ ভারতে বিয়ের সময় মেয়ের গোত্র বদলে যায়। এর ফলস্বরূপ, কোনও মেয়ে বিয়ের পর তাঁর দাদা বা ভাইয়ের কাছে খোরপোষের আর্জি জানাতে পারেন না। ফলে উইল ছাড়া সেই সম্পত্তি শ্বশুরবাড়ির ভাগেই যাবে।

কোভিড-১৯-এর সময় অল্পবয়সী দম্পতির মৃত্যু বা নিঃসন্তান দম্পতির মৃত্যুর পর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে একাধিক মামলা সামনে আসায় আদালত এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলো।