সিম কার্ড নেই, তবুও উদ্ধার হলো ফোন! রিকশাচালকের এই কৌশল অবাক করল গোটা দেশকে!

বর্তমানে দেশের একটা বড় অংশের খুচরা কেনাকাটা হয় UPI-এর মাধ্যমে। কিন্তু এবার শুধু টাকা লেনদেনের বাইরেও UPI যে মানবিকতার এক অন্য নজির গড়তে পারে, সেটাই দেখালেন একজন রিকশাচালক। সম্প্রতি এক ভদ্রলোকের সমাজ মাধ্যমের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি এই ঘটনাকে ‘UPI মিরাকল’ বলে অভিহিত করেছেন।

পোস্টে ওই ব্যক্তি লেখেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং একজন দয়ালু মানুষের সাহায্যে তাঁর স্ত্রী নিজের সদ্য কেনা সিম কার্ডবিহীন ফোনটি হারিয়েও ফিরে পেয়েছেন।

রিকশায় হারিয়ে গেল নতুন ফোন
ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী একটি ব্যাটারি চালিত রিকশায় চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে নেমে তাঁরা UPI-এর মাধ্যমে ভাড়া মিটিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই স্ত্রীর মনে হয়, হাতে নতুন ফোনটি নেই। ফোনটি কোথায় ফেলে এসেছেন, তা কিছুতেই মনে করতে পারেননি তাঁরা। ফোনটি চুরি গেছে নাকি রিকশায় ফেলে এসেছেন, তা নিয়ে শুরু হয় দুশ্চিন্তা।

যেহেতু ফোনে কোনো সিম কার্ড ঢোকানো ছিল না, তাই কল করে সেটির অবস্থান জানারও সুযোগ ছিল না। ঠিক তখনই ওই ব্যক্তির মনে পড়ে তিনি UPI-এর মাধ্যমে ভাড়া মিটিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি UPI অ্যাপ থেকে রিকশাচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে কেবল চালকের UPI আইডি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি। হতাশ হয়ে তাঁরা বাড়ির দিকে রওনা দেন।

১ টাকার লেনদেনই হলো যোগাযোগের মাধ্যম
ঠিক সেই সময়েই ভদ্রলোকের ফোনে একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা আসে: তাকে কেউ ১ টাকা পাঠিয়েছেন! সেই UPI লেনদেনের সাথেই একটি ফোন নম্বর দিয়ে তাঁকে কল করতে বলা হয়।

ফোন করতেই ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, ইনি সেই রিকশাচালক। রিকশাচালক তাঁদের যেখানে আছেন, সেখানেই অপেক্ষা করতে বলেন এবং নিজে সেখানে এসে ফোনটি ফেরত দিয়ে যান।

জানা গেছে, রিকশাচালক যখন ফোনটি কুড়িয়ে পান, তখন তিনি বুঝতে পারেন এটি নতুন ফোন এবং এর মালিক চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। কিন্তু যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না। তখনই তিনি বুদ্ধি করে সেই UPI আইডিতে মাত্র ১ টাকা ফেরত পাঠান এবং লেনদেনের বিবরণের জায়গায় নিজের নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।

ভদ্রলোক খুশি হয়ে সেই চালককে কিছু টাকা বখশিশ দেন। এই ঘটনায় সকলেই একযোগে UPI ব্যবস্থা এবং ওই রিকশাচালকের সততাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। প্রযুক্তির কারণে যেমন যোগাযোগটি সহজে তৈরি হয়েছিল, তেমনই চালকের সততা না থাকলে কখনওই ওই ফোন ফিরে পাওয়া সম্ভব হত না।