মহাবিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রহস্য! মহা বিস্ফোরণের পর জন্ম নেওয়া আদিম ব্ল্যাক হোল

সাধারণ ব্ল্যাক হোলের মতো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর এদের জন্ম হয় না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আদিম ব্ল্যাক হোল বা ‘প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাক হোল’ তৈরি হয়েছিল মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন অর্থাৎ মহা বিস্ফোরণের (বিগ ব্যাং) ঠিক পরের মুহূর্তে। সেই সময় মহাবিশ্ব এতটাই ঘন সন্নিবিষ্ট ছিল যে কিছু অতি ক্ষুদ্র অংশ নিজের বিপুল ঘনত্বের চাপে সংকুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়। এই ধরনের ব্ল্যাক হোল মহাবিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো এবং রহস্যময় বস্তুগুলোর একটি।

কেন এরা এত অনন্য?
উৎপত্তি: সাধারণ ব্ল্যাক হোল তৈরি হয় মৃতপ্রায় নক্ষত্রের কেন্দ্র ভেঙে পড়ার ফলে, কিন্তু আদিম ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়েছিল মহাবিশ্বের একেবারে শৈশবে।

আকার ও ভর: কিছু আদিম ব্ল্যাক হোল একটি পরমাণুর চেয়েও ছোট হতে পারে, অথচ তাদের ভর একটি আস্ত পর্বতের চেয়েও বেশি। আবার কিছু হয়তো একটি ফুটবলের মতো বড়। এই অস্বাভাবিক আকার ও ঘনত্বের কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের একটি বড় অংশ হয়তো এই আদিম ব্ল্যাক হোল দিয়েই গঠিত।

নীরব গতি: নাক্ষত্রিক ব্ল্যাক হোলের মতো এরা কোনো কিছুর সঙ্গে তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে না। তাই এদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এরা মহাজাগতিক ছায়ামূর্তির মতো নীরবে ব্রহ্মাণ্ডে ভেসে বেড়ায়। কিছু বিজ্ঞানীর মডেল অনুযায়ী, প্রতি দশকে অন্তত একটি করে এমন ব্ল্যাক হোল আমাদের সৌরজগতের মধ্যে দিয়ে পার হয়ে যেতে পারে।

ভবিষ্যৎ গবেষণার গুরুত্ব
আদিম ব্ল্যাক হোল এখনো পর্যন্ত তাত্ত্বিক স্তরেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এদের নিয়ে গবেষণা আমাদের মহাবিশ্বের শৈশবের অজানা অনেক তথ্য জানতে সাহায্য করতে পারে। এদের অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে ডার্ক ম্যাটারের রহস্যের সমাধানও হতে পারে।