‘ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান’! চরম মিথ্যাচার, পাক পাঠ্যবইয়ে যুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস
ভারত-পাক সংঘাতের বাস্তব ঘটনাকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে পাকিস্তানের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে ঘটে যাওয়া ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে মনগড়া ও কাল্পনিক কিছু তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পাকিস্তানের পাঠ্যবইয়ে কী শেখানো হচ্ছে?
মিথ্যা তথ্য ১: পাকিস্তানের পাঠ্যবইয়ে দাবি করা হয়েছে, ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলা একটি ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে’ হয়েছিল। এর জবাবে ভারত ৬ ও ৭ মে সামরিক আগ্রাসন চালায়।
মিথ্যা তথ্য ২: বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অত্যন্ত সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভারতের আক্রমণ মোকাবিলা করেছে এবং ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের’ একাধিক ভারতীয় সামরিক পোস্ট ধ্বংস করেছে।
মিথ্যা তথ্য ৩: ভারতের ড্রোন হামলার জবাবে ১০ মে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। এতে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ভারতের ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সফলভাবে হামলা চালিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে।
মিথ্যা তথ্য ৪: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে ভারত শান্তির জন্য অনুরোধ জানায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারংবার অনুরোধে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
মিথ্যা তথ্য ৫: বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য জেনারেল আসিম মুনিরকে ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা হয়েছে, যা সমগ্র জাতির জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত।
বাস্তবে যা ঘটেছিল
‘অপারেশন সিঁদুর’: বাস্তবে, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এই হামলার দায় স্বীকার করে লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা সংগঠন। এর জবাবে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ৯টি জঙ্গি আস্তানায় নির্ভুল আক্রমণ চালায়।
পাকিস্তানের হামলা ও ভারতের পাল্টা জবাব: ইসলামাবাদ ড্রোন হামলার মাধ্যমে অমৃতসর, জম্মু, শ্রীনগরসহ ২৬টি অসামরিক এলাকায় আক্রমণ চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত লাহোরে পাকিস্তানের HQ-9 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে এবং শিয়ালকোট, ইসলামাবাদসহ একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্যাটেলাইট ছবিতে এসব ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণও দেখানো হয়।
যুদ্ধবিরতি: ভারত কোনো অনুরোধ জানায়নি। বরং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে যুদ্ধবিরতি আলোচনার আহ্বান জানালেও ভারত তাতে রাজি হয়নি। পরে দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে আলোচনা হয়, যেখানে পাকিস্তানই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেয়। ভারত তা মেনে নেয়।
সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানের এই পাঠ্যবইয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এটিকে ‘হাস্যকর’ এবং ‘কাল্পনিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেদের যুবসমাজকে মিথ্যা ইতিহাস শেখানোর এই প্রবণতা ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।