দুর্গাপ্রতিমা গড়ে সংসার চালান, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে লড়াই, দেখুন কৃষ্ণা দাসের অদম্য স্পৃহা!

কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর যখন মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিল, তখন হাল ছাড়েননি ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবার বাসিন্দা কৃষ্ণা দাস। দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ পরিবারের নয় জন সদস্যের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। প্রবল দুশ্চিন্তার মধ্যে আত্মীয়-প্রতিবেশীদের পরামর্শে তিনি বেছে নিলেন স্বামীর শেখানো প্রতিমা গড়ার কাজকে। সেই থেকেই শুরু হয় তার নতুন সংগ্রাম।

৫২ বছর বয়সী কৃষ্ণা দাস এখন একজন দক্ষ মহিলা মৃৎশিল্পী। স্বামীর কাছ থেকে শেখা এই শিল্পকেই তিনি নিজের রুজি-রোজগারের একমাত্র পথ করে তুলেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে যখন পুরো পরিবার হিমশিম খাচ্ছিল, তখন দাঁতে দাঁত চেপে তিনি মাটির প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। মরশুম অনুযায়ী কালী, সরস্বতী, কার্তিক, মনসা এবং এখন দুর্গাপ্রতিমা গড়ার বরাত পান। এই বছর তিনি আটটি বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন। জায়গার অভাবে প্রতিবেশীর বাড়িতেও কাজ করছেন তিনি।

কৃষ্ণাদেবী শুধু নিজের সংসারই টানছেন না, এই বছর ভালো বরাত পাওয়ায় আরও ছয়টি পরিবারের অন্নসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিমা তৈরির কাজে নিজের ছেলেকে শিখিয়েছেন, এখন সে-ও তাকে সহযোগিতা করে। স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হলেও তার শেখানো বিদ্যাকে আঁকড়ে ধরেছেন তিনি। কৃষ্ণাদেবী বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টে দিন কেটেছে। তবে তার কাছ থেকে প্রতিমা গড়ার কাজটা শিখে রেখেছিলাম বলেই আজ সংসার চালাতে কোনো সমস্যা হয় না।” কৃষ্ণাদেবীর এই অদম্য লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন এলাকার সবাই।