ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেবে?

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামী ছট পুজোর (২৮ অক্টোবর) পরেই ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ ৫ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এবং নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে বলে খবর।

বিহার বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ এই বছর ২২ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে তার আগেই সমস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সূত্রের খবর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগামী সপ্তাহে বিহারে যাবেন। সেখানে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত ভোটার তালিকাটিও পর্যালোচনা করবেন।

সম্প্রতি বিহারে স্পেশাল ইন্টিগ্রেটেড রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই প্রক্রিয়ার কারণে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। বিরোধী ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে অভিযোগ করেছে যে, এটি বিরোধী দলের অনুগামী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়েছে যে, ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও যদি কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তাহলে তারা পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল করে দিতে পারে।

এই বছরের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতাসীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) এবং বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ জোট (বিজেপি, জেডিইউ এবং অন্যান্য দল) ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। অন্যদিকে, আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলিকে নিয়ে গঠিত বিরোধী জোটও ক্ষমতা দখলের জন্য প্রস্তুত। তবে উভয় জোটেই আসন বণ্টন নিয়ে এখনো টানাপোড়েন চলছে। ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় বর্তমানে এনডিএ-র আসন সংখ্যা ১৩১, যেখানে বিরোধী জোটের রয়েছে ১১১টি আসন।