আজও টিকে আছে ৩৫০ বছরের পুরনো প্রথা! বর্ধমানের দাস পরিবারে কেন পুজোর আগে থেকেই ধূপ-মোমবাতি তৈরির ধুম?

পূর্ব বর্ধমানের দাস পরিবারে প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গোৎসবের এক বিশেষ ঐতিহ্য চলে আসছে। এখানে দেবীর আরাধনা করা হয় বাজারে কেনা ধূপ-মোমবাতি দিয়ে নয়, বরং বাড়িতে তৈরি ভেষজ ধূপ ও মোমবাতি দিয়ে। রাসায়নিকমুক্ত এই ধূপের সুগন্ধ পুজোর দিনগুলোতে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

ঐতিহ্যের শুরু

এই পুজোর সূচনা হয়েছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে, বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে। দাস পরিবারের পূর্বপুরুষরা বাঁকুড়া থেকে বর্ধমানের কাঞ্চন নগরে আসার পর কাঁসা-পিতলের ব্যবসা শুরু করেন এবং তখন থেকেই এই পুজোর প্রচলন হয়। বর্তমানে সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও পুজোর ঐতিহ্য আজও অটুট।

ভেষজ ধূপ ও মোমবাতি তৈরির বিশেষ প্রথা
পরিবারের সদস্যরা এই পুজোর জন্য নিজেরাই ধূপ ও মোমবাতি তৈরি করেন।

ধূপ: জন্মাষ্টমীর দিন পরিবারের বউ-মেয়েরা স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ২০ রকমের ভেষজ উপাদান দিয়ে ধূপ তৈরি করা শুরু করেন। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই বিশেষ ধূপই ব্যবহার করা হয়।

মোমবাতি: একসময় মৌচাকের মোম সংগ্রহ করে বাড়িতে মোমবাতি তৈরি করে পুজোর সব দিনেই ব্যবহার করা হত। তবে বর্তমানে শুধুমাত্র অষ্টমীর দিনেই এই হাতে গড়া মোমবাতি জ্বালানো হয়।

বদলে গেছে জৌলুস, অটুট আছে রীতি
আগে এই পুজোকে ঘিরে যাত্রাপালা ও কবিগানের আসর বসত। দশমীর দিন বাঁশের দোলায় করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব জৌলুস কমলেও, রীতিনীতি মেনে পুজোর প্রতিটি ধাপ আজও পালিত হয়। পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকলেও পুজোর কটা দিন সকলে মিলে পূর্বপুরুষের বাড়িতে একত্রিত হন।