বৃষ্টির জের! ফের বাড়ল ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কোথায়?

পুজোর মুখে টানা বৃষ্টি এবং ঝাড়খণ্ডের অতিবৃষ্টির কারণে আবারও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)। বৃহস্পতিবার থেকে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে প্রায় ৪৩ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। এর ফলে দামোদরের জলস্তর বিপদসীমা পার করেছে, যা দামোদর উপকূলবর্তী মানুষ এবং আসন্ন মহালয়ার তর্পণ ও দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন দামোদরের বিভিন্ন ঘাটে পূর্বপুরুষদের তর্পণ করতে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। ডিভিসির জল ছাড়ার কারণে দামোদর কানায় কানায় পূর্ণ এবং খরস্রোতা রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে তর্পণ এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আসানসোলের মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য জানান, তারা ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আসানসোল পুরনিগম এবং ব্লক স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সেখানে তর্পণ ও প্রতিমা নিরঞ্জনের উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

সচেতনতা: যে সমস্ত ঘাটে জলের স্তর বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, সেখানে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে।

নিরাপত্তা: প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলা করা যায়।

প্রস্তুতি: প্রশাসন সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক হয়েছে এবং আমরা সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করছি। বৃষ্টির কারণে ডিভিসি থেকে জল ছাড়া বাড়ানো হয়েছে। আমরা দেখছি কীভাবে নিরাপদে তর্পণ ও প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করা যায়।”