ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ভারতের জন্য নতুন বিপদ! কেন চিন্তায় মোদি সরকার?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে এবার ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা ভারত সরকারের জন্য এক নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চাবাহার বন্দর ব্যবহারকারী দেশগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা চাবাহার বন্দরের জন্য নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া ছাড় প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেস বিবৃতি দেখেছি। বর্তমানে আমরা ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে তা পরীক্ষা করছি।” গত ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞা চাবাহার বন্দরের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সংস্থা এবং দেশকে প্রভাবিত করবে।

ভারতের কাছে চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব
ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক পথ নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লাইফলাইন।

পাকিস্তানের বিকল্প পথ: পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতকে পাকিস্তানের পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।

চিনের আধিপত্য মোকাবিলা: পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পরিচালনা করে চিন। তাই চাবাহার বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ভারত আরব সাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলা করতে সক্ষম।

আন্তর্জাতিক করিডোর: চাবাহার বন্দরটি ভারত থেকে রাশিয়া ও ইউরোপ পর্যন্ত সংযোগকারী আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের সঙ্গেও যুক্ত।

ভারতের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
এই বছরের ১৩ মে, ভারত ইরানের সঙ্গে ১০ বছরের জন্য চাবাহার বন্দর পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে ভারতীয় পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছিল। এটিই ছিল প্রথমবার যখন ভারত কোনো বিদেশি বন্দরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ লাভের চুক্তি করেছিল। কিন্তু নতুন মার্কিন সিদ্ধান্ত সেই চুক্তির ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এখন ভারতের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে, দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা। একই সময়ে, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে ভারতকে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতকে যেমন তার বিনিয়োগ রক্ষা করতে হবে, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।