বাংলার ভোটে ‘সিএএ’ ইস্যুতেই কি বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি? সল্টলেকের বৈঠকে তৈরি হলো চূড়ান্ত রণনীতি!

আসন্ন নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। সম্প্রতি সল্টলেকের একটি পাঁচতারা হোটেলে আরএসএস ও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে সিএএ-এর আওতায় দ্রুত আবেদন জমা দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে এই ইস্যুকে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনছে।

কেন সিএএ নিয়ে এত তৎপরতা?
দু’সপ্তাহ আগে যোধপুরে অনুষ্ঠিত আরএসএস-এর সমন্বয় বৈঠকেও বাংলায় অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সল্টলেকের বৈঠকে সেই উদ্বেগের রেশ দেখা যায় এবং সিএএ-এর অধীনে দ্রুত আবেদন জমা দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, আরএসএস চায় যাতে যোগ্য ব্যক্তিরা কোনো ভয় বা উদ্বেগ ছাড়াই নির্ভয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং দ্রুত নাগরিকত্ব পেতে পারেন।

এই প্রক্রিয়ায় আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন মাঠে নামলেও, মূল দায়িত্বে থাকবে বিজেপি। এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সিএএ ইস্যুকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায় বিজেপি।

বৈঠকে কারা ছিলেন?
বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে সমন্বয় বৈঠক নতুন কিছু না হলেও, এবারের বৈঠকের গঠন ছিল অনেকটাই ভিন্ন। জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিষয় নিয়ে মাঠে নামার জন্যই এই বিশেষ বৈঠক বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় পদাধিকারী প্রদীপ যোশী, রমাপদ পাল, জলধর মাহাতো এবং জিষ্ণু বসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা।

অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই বৈঠকে যোগ দেন। এছাড়াও, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও জেলা স্তরের নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এই সমন্বয় বৈঠক থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো ভোটের আগে বাংলায় সিএএ ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা।