SSC কেলেঙ্কারিতে বিস্ফোরক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল! পার্থ-মুকুলের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতে অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং গ্রুপ সি-এর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া একসঙ্গে শুরু হওয়ার পর, প্রথম সাক্ষী হিসেবে প্রাক্তন এসএসসি চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের বয়ানে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতকে তিনি জানালেন, ২০১১ সালে তৃণমূলের শিক্ষা সেলের সভাপতি থাকার সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি এসএসসি-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

আজ সিবিআই চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে আদালতে হাজির করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আদালতের কাছে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, চাকরি দেওয়ার জন্য তার উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়ার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি চাপ দিতেন।” এই অবৈধ চাপ সহ্য করতে না পেরেই আড়াই বছর পর তিনি পদত্যাগ করেন বলে দাবি করেন।

আদালতে প্রশ্নোত্তর পর্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি বিজেপির কোনো কমিটির সদস্য ছিলেন কিনা। জবাবে মণ্ডল জানান, তিনি ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে, সিবিআইয়ের কাছে বয়ান দেওয়ার সময় তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে যাননি এবং তার ওপর কোনো চাপও সৃষ্টি করা হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে চিত্তরঞ্জন মণ্ডল তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জানান, স্বচ্ছতার অভাব গোড়া থেকেই ছিল। ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ির চালকরা পর্যন্ত তালিকা নিয়ে আসত অবৈধভাবে চাকরি দেওয়ার জন্য। এই ধরনের চাপ রুখতে তিনি ওএমআর শিট কার্বনলেস করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যাতে পরীক্ষার্থীরা নিজেরাই তার একটি কপি রাখতে পারে। স্ক্যান করে ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি, যা পরবর্তীকালে কার্যকর হলে এই দুর্নীতি হয়তো ঘটত না।

চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের এই সাক্ষ্য শিক্ষা দুর্নীতির তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার বয়ানে উঠে আসা তথ্য মামলার গতিপ্রকৃতি আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।