সাবুদানা শুধু উপোস ভাঙা নয়, নারীদের জন্যেও অমৃত! খেলেই মিলবে উপকার

ছোট্ট দানাদার এই খাবারটি শারীরিক বিকাশে যেমন উপকারী, তেমনই ফালুদা থেকে খিচুড়ি—নানা পদে এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে জানেন কি, সাবুদানা শুধু শিশুদের নয়, নারীদের স্বাস্থ্যের জন্যও এক দারুণ উপাদান? বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান এবং ইন্টারমিটিং ফাস্টিং করেন, তাদের উপোস ভাঙার জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকর সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সাবুদানার খিচুড়ির ছবি শেয়ার করে এর বহুবিধ উপকারিতার কথা তুলে ধরেছেন। তার পোস্ট অনুযায়ী, চিনাবাদাম, কারি পাতা, জিরা, নারকেল ও ঘিয়ের সংমিশ্রণে তৈরি সাবুদানা বিশ্বজুড়ে পুষ্টিবিদদের মন জয় করছে। তিনি জানান, এটি স্বাস্থ্য ও হরমোন উন্নত করতেও সহায়ক। পাশাপাশি, দৈনিক কতটা সাবুদানা খাওয়া উচিত, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
পাম গাছের গোড়ার ভক্ষণযোগ্য অংশ থেকে তৈরি হওয়া সাবুদানা গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। রুজুতা দিওয়েকরের কাছ থেকে জেনে নিন এই সুপারফুডের কিছু অবিশ্বাস্য উপকারিতা:
দ্রুত শক্তির উৎস: প্রতি ১০০ গ্রাম সাবুদানায় ৩৩২ ক্যালোরি, ৮৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১১ শতাংশ দৈনিক জিঙ্কের চাহিদা পূরণ হয়। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি প্রি-ওয়ার্কআউট মিল হিসেবে দারুণ কাজ করে এবং দ্রুত শক্তি জোগায়।
জ্বর ও ক্ষুধামন্দায় উপকারী: সাবুদানার খিচুড়ি ফ্লু ও জ্বর দ্রুত সারাতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কমায়। ওষুধের কোর্স শেষ হওয়ার পর এক বাটি সাবু খাওয়া যেতে পারে।
মাসিকের অস্বস্তিতে আরাম: মাসিকের আগে অনেক নারীর ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। দুপুরে টকদইয়ের সঙ্গে এক ছোট বাটি সাবুদানা খেলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।
প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক: এক ছোট বাটি সাবুদানা মাখা বা খিচুড়ি প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা সপ্তাহে দুবার এটি খেতে পারেন।
মেনোপজ ও এন্ডোমেট্রিওসিসের উপশমে: মেনোপজ ও এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যায় ভুগলে সপ্তাহে একবার অথবা মাসিক চক্রের চতুর্থ দিনে এক ছোট বাটি সাবুদানা খান, উপকার পাবেন।
হজমক্ষমতা বাড়ায়: সাবুদানা হজম স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক এবং পাকস্থলীতে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও প্রতিরোধ করে।
হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে: পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় সাবুদানা হাড়কে শক্তিশালী করে ও হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়। নিয়মিত সাবুদানা খেলে অস্টিওপোরোসিস ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: পটাসিয়াম সমৃদ্ধ সাবুদানা স্বাস্থ্যকর রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কমায়, ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: ইঁদুরের উপর করা ল্যাব টেস্টে দেখা গেছে, সাবুদানা কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইলোজ থাকে।
সাবুদানা মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ এবং এতে অন্যান্য পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে কম। তাই একে আরও পুষ্টিকর করতে চিনাবাদাম ও বিভিন্ন সবজি যোগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে সাবুদানার খিচুড়ি একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার।
তবে ওজন কমাতে চাইলে বা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেশি পরিমাণে সাবুদানা খাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি স্টার্চযুক্ত এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ওজন বাড়াতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে সাবুদানা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।