দূষণমুক্ত শ্মশান, হুগলির কোন্নগরে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক চুল্লি, কী বিশেষত্ব রয়েছে?

হুগলির কোন্নগরে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের প্রথম পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক চুল্লি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোন্নগর পুরসভা এলাকার গঙ্গার পাড়ের প্রাচীন শ্মশান ঘাটে এই অত্যাধুনিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। আগে যেখানে কাঠ পুড়িয়ে শবদাহ করা হত, এবার সেখানে দূষণমুক্ত উপায়ে সৎকারের কাজ হবে। কোন্নগর পুরসভার তত্ত্বাবধানে এবং রাজ্য সরকারের ২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কোন্নগর পৌরসভার পৌরপ্রধান স্বপন দাস জানান, এই চুল্লির মূল বিশেষত্ব হলো এর দূষণমুক্ত পদ্ধতি। সাধারণত, শবদাহের সময় যে ধোঁয়া উৎপন্ন হয়, তা সরাসরি বাতাসে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কিন্তু এই নতুন চুল্লিতে সেই সমস্যা থাকবে না। সৎকারের ধোঁয়া প্রথমে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পরিস্রুত হবে এবং তারপর একটি উঁচু চিমনির মাধ্যমে বাতাসে নির্গত হবে। ফলে, দূষিত ধোঁয়ার বদলে শুধুমাত্র সাদা, দূষণমুক্ত জলীয় বাষ্প বাতাসে মিশবে। অন্যান্য বৈদ্যুতিক চুল্লির তুলনায় এর চিমনির উচ্চতাও অনেক বেশি, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও সহায়ক হবে।

কোন্নগরের এই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চলের মানুষেরও সুবিধা হবে। কোন্নগর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ছাড়াও কানাইপুর, নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ডানকুনি-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও এখানে সৎকার করতে পারবেন। স্থানীয়দের মতে, যারা বৈদ্যুতিক চুল্লিতে শবদাহ করতে চান, তাদের আর দূরবর্তী উত্তরপাড়া বা রিষড়া শ্মশানে যেতে হবে না। এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে।

প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পৌরপ্রধান স্বপন দাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সাহায্য করবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করবে। আগামী বছরের মধ্যেই এই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।