‘মুসলিম লিগের সরকার চলছে’, ‘ধর্ষকদের নেত্রী মমতা’, বিস্ফোরক শুভেন্দু; ‘সেবা পক্ষ’ শুরুতেই আক্রমণে বিরোধী দলনেতা

রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণ, ‘ধর্ষকদের নেত্রী মমতা’ বলে স্লোগান তুললেন বিরোধী দলনেতা

সম্প্রতি নন্দীগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের নারী সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে বলেন, ‘ধর্ষকদের নেত্রী কে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আবার কে!’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘সেবা পক্ষে সেবা প্রদান’ কর্মসূচিরও সূচনা করেন তিনি।

গ্রামের সেবিকাদের সম্মান ও ‘সেবা পক্ষ’ কর্মসূচি
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে গ্রামের সেই সমস্ত মা ও বোনদের প্রশংসা করেন, যারা দিনরাত পরিশ্রম করে সরকারি প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “আজ সেই সব গ্রামীণ সেবিকাদের সেবা প্রদান করার সুযোগ হল।” এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত পঞ্চায়েত স্তরের নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং সমবায়ের মহিলা সদস্যদের হাতে তিনি উপহার ও তুলসী চারা তুলে দেন। শুভেন্দু বলেন, “মোদীজির কর্মনিষ্ঠার মতোই এই মহিলাদের নিষ্ঠা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।”

রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে কড়া সমালোচনা
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নারী সুরক্ষা পরিস্থিতিকে ‘তলানিতে’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশ, আসাম, অন্ধ্রপ্রদেশ বা দিল্লির পুলিশের মতো এখানে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেই। তিনি মালদহের চাঁচলে রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানোর ঘটনা এবং পাঁশকুড়ার সরকারি হাসপাতালে ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনাগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে শাসক দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

তিনি অভিযোগ করেন, পাঁশকুড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত জাহির আব্বাস তৃণমূলের বড় নেতা এবং তাঁর মদতেই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের ঘর তৈরি করা হয়েছিল। শুভেন্দুর মতে, এই সমস্ত ঘটনার পেছনে মমতা সরকারের বড় নেতাদের হাত রয়েছে এবং ২০১৮ সাল থেকে এই পরিস্থিতি চলছে।

ভোটার তালিকা ও অনুপ্রবেশ নিয়েও সতর্ক করলেন শুভেন্দু
রাজ্যের নারী সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আক্রমণ করার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, রাজ্যে ১৩ লক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও ১ কোটিরও বেশি ভুয়ো নাম, যার মধ্যে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদেরও নাম রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই নামগুলো বাদ না গেলে সঠিক নির্বাচন সম্ভব নয়।

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেন যে, রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় এবং এর জন্য বর্তমান রাজ্য সরকারই দায়ী। তিনি বিশ্বাস করেন, আসন্ন নির্বাচনে এই রাজ্যের মহিলারাই মমতা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তার এই মন্তব্যের প্রভাব কতটা পড়ে।