ভোট দিলেন কিন্তু কাউকে পছন্দ হলো না? এই বিকল্পটি ব্যবহার করলেই আপনার ভোট হবে সার্থক

ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে। কিন্তু যদি কোনও ভোটার তাঁর পছন্দের কোনও প্রার্থী খুঁজে না পান, তাহলে কী হবে? এই সমস্যার সমাধানেই রয়েছে ‘নোটা’ (NOTA) বিকল্পটি। ইভিএম মেশিনে সবার নিচে থাকা এই বোতামটি ভোটারকে তাঁর ভোট না দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে সাহায্য করে।
কীভাবে এলো ‘নোটা’ এবং আইন কী?
২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের (PUCL vs Union of India) পর নির্বাচন কমিশন ইভিএম-এ ‘নোটা’ বোতাম চালু করে। এর অর্থ হলো ‘None of the Above’ বা ‘উপরের কেউই নন’। প্রথমবার এটি ব্যবহৃত হয় ২০১৩ সালের ছত্তীসগড়, মিজোরাম, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে।
‘নোটা’ কি ভোট বাতিল করতে পারে?
ভারতে ‘নোটা’র ভোট যত বেশিই হোক না কেন, তা নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে পারে না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যদি ‘নোটা’র ভোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে বেশিও হয়, তাহলেও যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন, তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। ভারতীয় নির্বাচনী আইনে ‘নোটা’কে শুধুমাত্র ভোটারের অসন্তোষ প্রকাশের একটি প্রতীকী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে নেপাল ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশে ‘নোটা’ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে পুনর্নির্বাচনের নিয়ম আছে।
‘নোটা’র গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, ‘নোটা’ বোতামের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। এটি ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী না থাকা সত্ত্বেও তাদের মতামত জানানোর সুযোগ দেয় এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। ২০১৫ সালে নির্বাচন কমিশন ‘নোটা’র জন্য একটি বিশেষ প্রতীকও তৈরি করে, যা ডিজাইন করেছিল আহমেদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন (NID)।