নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কি নোট বদল? চন্দ্রনাথ সিনহার অ্যাকাউন্টে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, দাবি ইডি-র

পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) মনে করছে, নোটবন্দির সময়কালে দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে গ্রেফতারের পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ইডি।

ইডি-র ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর, নোটবন্দির ঠিক পরেই, চন্দ্রনাথ সিনহা এবং তাঁর স্ত্রীর যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একদিনে নগদ ৭ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। এই টাকা তিনটি আলাদা ভাগে— সাড়ে তিন লক্ষ, পঞ্চাশ হাজার এবং তিন লক্ষ টাকা— জমা দেওয়া হয়েছিল।

ইডি-র দাবি, এই টাকা জমা দেওয়ার সময়কাল অত্যন্ত সন্দেহজনক। কারণ, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার জন্য ২০১৫ সাল থেকে নিয়োগের নামে টাকা তোলা শুরু হয়েছিল, যা ২০১৬ সালে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। সেই সময় নোটবন্দির কারণে পুরোনো নোট বাতিল হয়ে যাওয়ায়, দুর্নীতির টাকা নতুন নোটে বদলানোর জন্য এটি একটি উপায় ছিল।

ইডি-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, মন্ত্রীর স্ত্রীর আয়করের নথিতেও এই টাকা জমা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। ইডি-র সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির জাল শুধুমাত্র এক-দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং একাধিক এজেন্ট এবং সাব-এজেন্টের মাধ্যমে একটি বড় চক্রের মাধ্যমে কাজ চলত, যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন চন্দ্রনাথ সিনহা। ইডি-র দাবি, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের পর হঠাৎ করে ডিসেম্বরেই এত বড় অঙ্কের টাকা জমা পড়া স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনাটি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন ইডি কর্মকর্তারা।