লিঙ্গ পরিচয়ের সংকটে ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ! প্রয়াগরাজে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী নিজের যৌনাঙ্গ কাটলেন

লিঙ্গ পরিচয়ের গভীর সংকটে ভুগতে থাকা এক ১৭ বছর বয়সী ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী নিজের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তাঁকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কিশোরের এই চরম পদক্ষেপ সমাজে সচেতনতার অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে।

কেন এই চরম পদক্ষেপ?

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই কিশোর একজন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সিবিএসই বোর্ডের পড়াশোনা শেষে তিনি প্রয়াগরাজে কোচিং নিতে আসেন। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে তাঁর লিঙ্গ পরিচয়ের সংকট তাঁকে বেশি পীড়া দিত। চিকিৎসকদের তিনি জানিয়েছেন যে, ১৪ বছর বয়স থেকেই তাঁর মনে হতো তিনি আসলে মেয়েদের শরীরে আটকে থাকা একজন ছেলে। পরিবারে জানালে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে তিনি এতদিন এই যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করছিলেন।

চিকিৎসকের ভুল পরামর্শ ও পরিণতি

ইন্টারনেটে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে ওই কিশোর স্থানীয় এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, সেই চিকিৎসক তাঁকে নিজেই যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার পরামর্শ দেন এবং তার প্রাথমিক পদ্ধতিও শিখিয়ে দেন। এরপরেই অ্যানাস্থেশিয়া ও সার্জিক্যাল ব্লেড জোগাড় করে তিনি নিজের ঘরে এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেন। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সাহায্য চান। পরে বাড়ির মালিক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

চিকিৎসকদের বক্তব্য

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হতে পারত। বর্তমানে সার্জনরা তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু নতুন মূত্রনালী তৈরি করা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, সমাজে লিঙ্গ পরিচয়ের সংকট একটি গুরুতর বিষয় এবং সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সহায়তা না পেলে তা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।