নিরপত্তা বাহিনীর বিশাল সাফল্য! ছত্তিশগড়ে অভিযানে নিহত ১০, নিকেশ হলো ১ কোটি টাকা মাথার দামের মাওবাদী নেতা

মাওবাদী দমনে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। ছত্তিশগড়ের গারিয়াবন্দ জেলায় এক অভিযানে কমপক্ষে ১০ মাওবাদীকে খতম করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিল মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মডেম বালাকৃষ্ণ, যার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। এই সাফল্যকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ছত্তিশগড়ের গারিয়াবন্দ জেলার মইনপুর থানা এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদীদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। এই লড়াইয়েই ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে কুখ্যাত মাওবাদী নেতা বালাকৃষ্ণ ওরফে মনোজও ছিল। বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত এই বালাকৃষ্ণ নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে দীর্ঘদিন ধরেই মোস্ট ওয়ান্টেড ছিল।
রায়পুরের আইজি অমরেশ মিশ্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, এই অভিযানে রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল এবং সিআরপিএফ-এর কোবরা বাহিনী অংশ নিয়েছিল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের প্রশংসা করেছেন। এক্সে করা একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আবারও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। কোবরা কমান্ডো এবং ছত্তিশগড় পুলিশের মিলিত প্রচেষ্টায় ১০ মাওবাদীর জীবনাবসান হয়েছে, যার মধ্যে কোটি টাকা পুরস্কার থাকা মডেম বালাকৃষ্ণও ছিল।”
তিনি আরও বলেন, যেসব মাওবাদী এখনও সন্ত্রাসের পথে রয়েছে, তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করা উচিত। অমিত শাহ আবারও ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দেন।
কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদী দমনের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। শুধু এই বছরেই ছত্তিশগড়ে ২৪১ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২১২ জনই বস্তার ডিভিশনের। সরকার একইসঙ্গে মাওবাদীদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্যও কাজ করছে।