স্ত্রী’র নিষ্ঠুরতার মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন সেনা মেজর, ১০ বছরের আইনি লড়াই শেষে মুক্তি

দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর বেকসুর খালাস পেলেন এক সেনা মেজর এবং তাঁর বাবা-মা। স্ত্রী’র দায়ের করা নিষ্ঠুরতার মামলায় মুম্বইয়ের এসপ্ল্যানেড ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাঁদের সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে।

মামলার পটভূমি

২০১২ সালে হিমাচল প্রদেশের ওই মেজরের সঙ্গে দিল্লিতে অভিযোগকারিণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর মেজরের মুম্বই পোস্টিং হওয়ার পর তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। সেই সময় স্ত্রী তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন এবং মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, স্বামী তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন এবং পুনেতে সম্পত্তি কেনার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গর্ভাবস্থায় তাঁকে ঠিকমতো খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং বাড়ির কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

আদালতে মেজরের আইনজীবীর যুক্তি

মেজর এবং তাঁর বাবা-মায়ের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে আদালতে জানান, অভিযোগকারিণীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, অভিযোগ দায়েরের পর তিনি আর আদালতে হাজির হননি। আইনজীবী আরও বলেন, মেজর আগেই বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন এবং গত বছর সেই ডিক্রি জারি হয়েছে।

এছাড়াও, ওই মহিলা সামরিক আদালতেও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন এবং গত দশ বছরে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তবে মেজর বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির কপি জমা দিলে সামরিক আদালত রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

আদালতের রায়

সব দিক খতিয়ে দেখে আদালত রায় দিয়েছে যে, একাধিকবার তলব এবং ওয়ারেন্ট জারি করা সত্ত্বেও অভিযোগকারিণী আদালতে হাজির হননি। এই কারণে আদালত মেজর ও তাঁর বাবা-মাকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। এই রায়টি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রেই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সঠিক বিচার সম্ভব।