প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া নিন্দা, দোহায় ইজরায়েলি হামলায় আরব ও মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনার ঢেউ

কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলার নিন্দা এবং পরিস্থিতি নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য জরুরি আরব-ইসলামি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। আগামী রবি ও সোমবার কাতারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মোদী সরাসরি নিন্দা জানালেন

এই হামলার আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র নিন্দা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ইজরায়েলের দোহা হামলার সরাসরি নিন্দা জানান। মোদী এই ঘটনাকে কাতারের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা

জানা গেছে, দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতারা গাজায় শান্তি আলোচনা করতে এসেছিলেন, যা আমেরিকার সমর্থন পেয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই ইজরায়েল হামাসের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এই হামলা চালায়। হামাস জানিয়েছে, তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ আলোচক খলিল আল হাইয়ার ছেলে হামান, তার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ লাবাদ এবং তিনজন দেহরক্ষী। হামলায় একজন কাতারি নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল-থানি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে “বর্বর” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “নেতানিয়াহু ইজরায়েলি বন্দীদের জন্য সব আশা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম যে সভ্য মানুষের সঙ্গে আচরণ করছি। কিন্তু নেতানিয়াহু যা করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। হামলার দিন সকালে আমি একজন বন্দীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করছিলাম। তাদের আর কোনো আশা নেই।” কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।