একটা মিসড কল থেকে প্রেম, তারপর নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি! মহিষাদলের সেই হাড়হিম করা ঘটনার রায় ঘোষণা

একটা মিসড কল থেকে শুরু হয়েছিল পরিচয়। তারপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিল এক নাবালিকা। কিন্তু স্বপ্নের জীবন নয়, তার ঠাঁই হয়েছিল মহিষাদলের কুখ্যাত নিষিদ্ধপল্লীতে। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার রায় ঘোষণা করেছে তমলুকের পকসো আদালত।

ঘটনাটি ২০১৫ সালের। পাঁশকুড়া থানা এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকার ফোনে হঠাৎ একটি মিসড কল আসে। সেই অচেনা নম্বর থেকে আলাপ শুরু হয় এক যুবকের সঙ্গে, যে নিজের নাম বলেছিল ‘সাদ্দাম’। নিয়মিত ফোনালাপের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয়। একদিন সাদ্দামের ডাকে সাড়া দিয়ে নাবালিকাটি বাড়ি ছেড়ে চলে আসে। সে ভেবেছিল প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু হবে।

কিন্তু বাস্তবে সাদ্দাম তাকে মহিষাদলের এক যৌনপল্লীতে নিয়ে যায় এবং মাত্র ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। অন্যদিকে, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা-মা পাঁশকুড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

পরে, ওই নিষিদ্ধপল্লীতে আসা এক গ্রাহকের কাছে নিজের করুণ কাহিনী খুলে বলে নাবালিকা। সেই গ্রাহকের সাহায্যে সে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়েই পুলিশ মহিষাদলের ‘রায়ের ঠেক’ নামে ওই যৌনপল্লীতে অভিযান চালায় এবং নাবালিকাকে উদ্ধার করে। তখন গ্রেফতার করা হয় যৌনপল্লীর মালকিন সায়েরা বানু এবং তার স্বামী টিটু রায়কে। মূল অভিযুক্ত সাদ্দাম, যার আসল নাম শাহজাহান চিত্রকর, দেড় বছর পর পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি তমলুকের পকসো আদালতের বিচারক সুস্মিতা ভট্টাচার্য এই তিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেছেন। সরকারি আইনজীবী কিংকর গায়েন জানান, নারী পাচার চক্রে অভিযুক্তদের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ে মূল অভিযুক্ত শাহজাহান চিত্রকর এবং সায়েরা বানুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টিটু রায়ের দু’বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এই রায় সমাজের বুকে এক কড়া বার্তা দিল।