সিনেমা তৈরির আগেই ঘটল ‘সংযোগ’! ‘দেবী চৌধুরাণী’র মুক্তির আগে মন্দিরের উদ্বোধন, কী বলছেন পরিচালক?

ইতিহাসের সঙ্গে কল্পনার মিশেল ঘটিয়ে পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র তৈরি করেছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’ সিনেমা। সেই ছবির মুক্তির ঠিক আগে এক অদ্ভুত ‘সংযোগ’-এর সাক্ষী হলেন পরিচালক। ছবির রিসার্চের জন্য তিনি যে মন্দিরে যেতেন, তার নতুন রূপে উদ্বোধন করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বেলাকোবা শিকারপুরের প্রাচীন দেবী চৌধুরাণী এবং ভবানী পাঠকের মন্দিরটির দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার চলছিল। সম্প্রতি ভার্চুয়ালি সেই মন্দিরের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মজার বিষয় হলো, এই মন্দিরেই ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির গবেষণা করার জন্য বারবার ছুটে গিয়েছিলেন পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র। এখন ছবির মুক্তি যখন প্রায় দোরগোড়ায়, তখনই মন্দিরের এই নতুন রূপ দেখে তিনি আপ্লুত। তিনি এটিকে ‘সংযোগ’ ছাড়া আর কিছুই বলতে রাজি নন।
শুভ্রজিৎ মিত্র নিজেকে একজন আধ্যাত্মিক এবং ভাগ্যে বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর মতে, “আমাদের পুরো ছবিটাই দেশমাতৃকার পায়ে অর্পণ করা। মা মায়ের কাজ নিজেই করিয়ে নিচ্ছেন, আমরা নিমিত্ত মাত্র।” গত বছর কালীপূজার দিনে ছবির শুটিং শেষ হয়েছিল, আর এখন এই মন্দির উদ্বোধন করলেন একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় তিনি এক অনন্য সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়-সহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলীদের কাছেও এই সুখবর পৌঁছে দিয়েছেন।
আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘দেবী চৌধুরাণী’। বর্তমানে ছবির প্রচারের কাজে ব্যস্ত আছেন পুরো টিম। শুভ্রজিৎ জানান, ছবির মুক্তি নিয়ে তাঁর কোনো টেনশন নেই। তিনি কেবল ভালো ছবি বানিয়ে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। ২০২১ সালে ‘অভিযাত্রীক’ তৈরি করে জাতীয় পুরস্কার জিতে নেওয়া এই পরিচালক মনে করেন, বাংলা ভাষার ছবিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া তাঁর দায়িত্ব। তিনি আশা করছেন, ‘দেবী চৌধুরাণী’ বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করবে।