নেপালে সহিংস বিক্ষোভের প্রভাব পড়ছে ভারতের শিলিগুড়িতে! বন্ধ ভারত-নেপাল সীমান্ত

সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নেপালে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন এখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। এই সহিংস বিক্ষোভের প্রভাব এবার ভারতের মাটিতেও পড়তে শুরু করেছে। গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি দিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যত থমকে গেছে।

নেপালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২১ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, সোমবার এক ভারতীয় ট্রাকচালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর ফলে অন্যান্য ভারতীয় চালকরা ট্রাক ফেলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকার জেন-জি প্রজন্মের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।

পানিট্যাঙ্কিতে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত ট্রাক দুই দেশের সীমান্তে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। পানিট্যাঙ্কি এলাকার অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী নেপালের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ।

মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর কালাঙ্কি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করছেন। নেপালের বীরগঞ্জে আইনমন্ত্রী অজয় চৌরাসিয়ার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুতে কারফিউ প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত-নেপাল সীমান্তে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।