উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবে না বিজেডি ও বিআরএস, এনডিএ-র সুবিধা

উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছে ওড়িশার বিজেডি (BJD) এবং তেলেঙ্গানার বিআরএস (BRS) দল। মঙ্গলবার ভোটের ঠিক আগে তাদের এই সিদ্ধান্তে শাসক এনডিএ (NDA) কিছুটা স্বস্তিতে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে এনডিএ-র প্রার্থী হলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণন, আর ইন্ডিয়া জোটের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

বিজেডি-র ‘সমান দূরত্ব’ নীতি
বিজেডি-র সাংসদ সস্মিত পাত্র জানিয়েছেন, তাঁদের দলের প্রধান নবীন পট্টনায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া, উভয় জোট থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখবেন। এই কারণেই উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের কোনো সাংসদ ভোট দেবেন না। তিনি বলেন, “আমাদের দলের লক্ষ্য ওড়িশার ৪.৫ কোটি মানুষের উন্নতি সাধন করা, যার জন্য আমরা শাসক এবং বিরোধী, উভয় জোটের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রাখব।”

তবে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ভিন্ন কারণ। দলের এক অংশ এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন করতে চাইলেও অন্য অংশ এর বিরোধিতা করছিল। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিআরএস-এর প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত
অন্যদিকে, তেলেঙ্গানার আঞ্চলিক দল বিআরএস (BRS)-এর কার্যকরী সভাপতি কেটি রামা রাও জানিয়েছেন, তাঁদের দল ইউরিয়ার ঘাটতি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ইউরিয়ার চরম ঘাটতির কারণে কৃষকরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অথচ এই সমস্যা নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলই মাথা ঘামাচ্ছে না। তাই জাতীয় স্তরে এই প্রতিবাদ জানানোর জন্যই তাঁরা নির্বাচন থেকে বিরত থাকছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই শারীরিক কারণে উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনখড়। তার পদত্যাগের কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।