বাংলার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ‘বহিরাগত’দের ঢল, ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্য

বাংলার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আবারও নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিল। এবার ইস্যু ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা। এসএসসির এইবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভিন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী বাংলায় এসেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপি-তৃণমূল দু’পক্ষই নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছে।

কেন হঠাৎ ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা বাংলায়?

২০১৬ সালের পরীক্ষায় হিন্দি মাধ্যমের আবেদনকারীদের সুযোগ ছিল না। কিন্তু এবার ভারতীয় নাগরিক হলেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ মিলেছে। আর সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, এমনকি রাজস্থান থেকেও পরীক্ষার্থীরা বাংলায় এসেছেন। তারা বলছেন, তাদের রাজ্যে চাকরি নেই, বছরের পর বছর পরীক্ষা হয় না। তাই কাজের খোঁজে তারা বাংলায় এসেছেন।

হিন্দি মাধ্যমের জন্য শূন্যপদের সংখ্যা ২২৫১। এই পদের জন্যই ভিন রাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজস্থান থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলেন, “আমাদের ওখানে পরীক্ষা খুব কঠিন, কিন্তু এখানকার পদ্ধতি সহজ। দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, তাই এটা কোনো ব্যাপার নয়।”

মনীন্দ্র চন্দ্র কলেজের বাইরেও উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসা প্রচুর পরীক্ষার্থী ভিড় জমিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থী বলেন, “ঝাড়খণ্ড হোক বা বাংলা, সর্বত্রই দুর্নীতিতে ভর্তি। ঝাড়খণ্ডে তো সিট বিক্রি এবং পেপার ফাঁসের অভিযোগও উঠেছে।”

বেনারস থেকে আসা আরেক পরীক্ষার্থী জানান, “উত্তরপ্রদেশে চাকরির সুযোগ অনেক কম। ২০১৮-২০১৯ সালের পর থেকে আর কোনো শূন্যপদ নেই। প্রায় চার-পাঁচ বছর হয়ে গেল কোনো পরীক্ষা হয়নি।”

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এদের বক্তব্যেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। গোটা ভারতের লোক বাংলায় ছুটে আসছে কারণ এখানে পরীক্ষা হয়, এবং সেটা ঠিকঠাক হয়। আর এই লোকেরাই বলছে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে ‘জুমলা’ সরকার চলছে।”

অন্যদিকে, বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বাংলার বাঙালিরা নিজেদের মেধা চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে চাকরি পায়নি। এখন অন্য রাজ্যে কী হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার মতো সময় বাঙালির নেই।”

এই মুহূর্তে পরীক্ষা দুটি ধাপে হচ্ছে। আজ, ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষা, যেখানে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী বসেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর হবে একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা, যেখানে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার প্রার্থী অংশ নেবেন। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে ভিন রাজ্যের উপস্থিতি রাজ্যের বেকার যুবকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।