গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ভাঙন বিজেপিতে, মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে পদত্যাগ ১১ নেতার

আসন্ন নির্বাচনের আগে শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে বিজেপির অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি মণ্ডলে মণ্ডল সভাপতি রিনা মণ্ডলের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষের জেরে গত চার দিনে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ১১ জন পদাধিকারী। এদের মধ্যে রয়েছেন মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক।
যদিও পদত্যাগপত্রে সকলে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু দলের অভ্যন্তরে এটি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ, মণ্ডল সভাপতি রিনা মণ্ডল দলের পদাধিকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন রিনা মণ্ডল দলের উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের অনুমতি না নিয়েই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সদস্যদের সঙ্গে রানিগঞ্জ পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার জন্য গোপনে বৈঠক করেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে অন্যান্য পদাধিকারীর সম্পর্কে ফাটল ধরে।
প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ভোলানাথ সিদ্ধা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই মণ্ডলটি ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা এলাকায় বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী এলাকা। ২০২১ সালের নির্বাচনে আমরা ৫২টি বুথের মধ্যে ৫১টিতেই এগিয়ে ছিলাম।” তিনি মনে করেন, এই ধরনের ভাঙন আগামী নির্বাচনে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মু বলেছেন, “বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।” শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরুণ মণ্ডলও এই ইস্তফার খবর নিশ্চিত করে বলেন যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
এছাড়াও, জেলা কমিটি গঠনের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ, সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে কিছু নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে হিন্দিভাষীদের উপযুক্ত জায়গা না দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। সব মিলিয়ে, একসময় বিজেপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই মণ্ডলে বর্তমান নেতৃত্ব এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।