ফাস্টফুড খাচ্ছেন? বাড়তে পারে স্ট্রেসের ঝুঁকি! জানুন কীভাবে?

আজকের দ্রুতগতির জীবনে যুবক, প্রাপ্তবয়স্ক বা বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রায় সকলেরই স্ট্রেসের মাত্রা আকাশছোঁয়া। কর্মব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ অথবা ব্যক্তিগত সমস্যা – যেকোনো কারণেই হোক, স্ট্রেস যেন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই তাড়াহুড়োতে অনেকেই সহজে হাতের কাছে পাওয়া যায় এবং সুস্বাদু হওয়ায় ফাস্টফুডের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে আপনি কি জানেন, এই ফাস্টফুডই আপনার স্ট্রেসের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে? ফাস্টফুড এবং স্ট্রেসের মধ্যেকার এই সংযোগটি জেনে নেওয়া যাক –

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা সরাসরি আমাদের মেজাজের পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার, যেমন সেরোটোনিন, ডোপামিন এবং অ্যাসিটাইলকোলিন আমাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং আচরণের পদ্ধতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভিটামিন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্ট্রেসের অনুভূতি বাড়াতে পারে।

সম্প্রতি নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় অল্প বয়সী, স্থূলকায় এবং কম আয়ের মায়েদের অংশগ্রহণ করানো হয়েছিল। গবেষণায় তাদের ফাস্টফুড এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত স্ন্যাকস খাওয়ানো হয়। ১৬ সপ্তাহব্যাপী এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্ট্রেস মোকাবেলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি রোধ করা।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে গবেষকরা অংশগ্রহণকারী নারীদের তাদের স্ট্রেসের কারণগুলোর সরাসরি সমাধানের পরিবর্তে, তাদের চিন্তাভাবনার ধরণ পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, কোনো সমস্যা হলে নিজেদেরকে দোষারোপ না করার বিষয়েও উৎসাহিত করেন।

এই গবেষণা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ফাস্টফুডের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই স্ট্রেস কমাতে এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে ফাস্টফুডের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।