সুন্দরবনের মুখে আধুনিক চিকিৎসার হাসি, সন্দেশখালিতে ৬০ শয্যার নতুন হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন

এক সময় চিকিৎসার অভাবে যেখানে বহু প্রান্তিক মানুষকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হতো, সেই সন্দেশখালিতে এবার শুরু হলো আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার এক নতুন দিগন্ত। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের খুলনা ব্লক হাসপাতাল ৩০ শয্যা থেকে ৬০ শয্যায় রূপান্তরিত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষজন সকল প্রকার আধুনিক পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সন্দেশখালির মিশন মাঠে এসে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, সন্দেশখালির রুরাল হাসপাতালকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই সন্দেশখালি খুলনা ব্লক হাসপাতালে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হলো।
জানা গেছে, এতদিন এই হাসপাতালে মাত্র ৩০টি শয্যা ছিল এবং কোনো অপারেশন থিয়েটার ছিল না। এর ফলে প্রসব যন্ত্রণা থেকে শুরু করে অন্যান্য জটিল অপারেশনগুলির জন্য রোগীদের দূরের হাসপাতালে যেতে বাধ্য হতে হতো। পথেই বহু রোগীর জীবনাবসান ঘটত, যা সুন্দরবনের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ ছিল।
এবার এই দুস্থ রোগীদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালটিকে ৬০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুজন চিকিৎসককে নতুন করে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও, এখন থেকে এখানে বিভিন্ন অপারেশন ছাড়াও রোগ নির্ণয় করার জন্য আধুনিক ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা হবে। যে পরিষেবা থেকে এতদিন সুন্দরবনের মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, তা হাতের নাগালে চলে আসবে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই হাসপাতাল সম্পূর্ণ নতুন রূপে প্রান্তিক মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আজ এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মন্ডল, সন্দেশখালি ২-এর বিডিও অনুপম সামন্ত সহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা।
এই আধুনিক হাসপাতালের যাত্রা শুরু সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে এক নতুন আশা নিয়ে এসেছে। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং অকালমৃত্যু রুখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।