শহরে গেস্ট হাউসের রমরমা, বেহাল নিরাপত্তা, কমিশনারের কড়া বার্তা!

কলকাতা শহরে গেস্ট হাউসের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে পর্যটন ও ব্যবসার সুযোগ বাড়লেও, এর নেতিবাচক দিকগুলো এখন প্রকট। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গেস্ট হাউসগুলোয় অবাধে চলছে সুরক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন। কলকাতা পুলিশের তৈরি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)-এর তোয়াক্কা করছে না অধিকাংশ গেস্ট হাউস। অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই না করা এবং থানায় দেরিতে তথ্য জানানো, এই দুই গাফিলতিই মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অসামাজিক ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। দুষ্কৃতীদের আশ্রয়স্থল থেকে শুরু করে গেস্ট হাউসগুলোতে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশ।
গত ২০ জুলাই আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যা গেস্ট হাউসগুলির বেহাল সুরক্ষার চিত্র তুলে ধরে। “গ্রিন এজ রেসিডেন্সি গেস্ট হাউস”-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই না করেই থাকার অনুমতি দিয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ১৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখ থেকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই ওই গেস্ট হাউসে অবস্থান করছিলেন। এই গুরুতর SOP লঙ্ঘনের জন্য গেস্ট হাউসটির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের কমিশনার তাঁর কড়া মনোভাব স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, “প্রত্যেকটা গেস্ট হাউস, হোটেল এবং লজে আমাদের SOP মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তা আমরা আরও খতিয়ে দেখব। যারা পুলিশকে সময় মতো তথ্য জানায়নি, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা SOP রিভিউ করে দেখছি। প্রত্যেকটা গেস্ট হাউস, হোটেল এবং লজে আমাদের SOP যাতে পুরোপুরি মানা হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব।”
শহরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গেস্ট হাউসগুলির দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের এই কড়া বার্তা এবং তৎপরতা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিতে কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার।