আপনার ঘরের বাতাসকে সতেজ রাখুন, কিছু উপকারী ইনডোর প্ল্যান্টের জাদুকরী ক্ষমতা!

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিহার্য। গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেন ও খাদ্যই দেয় না, বরং প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের নির্গত কার্বন-বিষ শোষণ করে এবং আমাদের হৃৎপিণ্ড সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বাতাসে ছেড়ে দেয়। করোনা অতিমারীর এই সময়ে যখন বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, তখন প্রাকৃতিক অক্সিজেনের উপর ভরসা রাখা খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। সতেজ বাতাসে শ্বাস নিতে ঘরে কিংবা অফিসে রাখতে পারেন কিছু উপকারী গাছ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু গাছের সম্পর্কে, যা আপনার ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে:

বাঁশ গাছ (Bamboo Palm)
এই গাছ বাতাসের দূষিত কণা টোলুইন, ক্ষতিকারক টক্সিন বেঞ্জিন এবং ফর্ম্যালডিহাইডকে শোষণ করে ঘরের অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এটি ঘরের ভেতরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।

আইভি (English Ivy)
গবেষকদের মতে, আইভি গাছ মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘরের বাতাসের প্রায় ৬০ শতাংশ টক্সিন এবং ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত দুর্গন্ধ শুষে নিতে পারে। এটি শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতেও সহায়ক।

ফিকাস (Ficus/Weeping Fig)
বাতাস পরিশুদ্ধ করতে এই গাছটি খুবই উপযোগী। এর জন্য খুব বেশি আলো বা জলের প্রয়োজন হয় না। তবে, শিশুদের এই গাছটি থেকে দূরে রাখা উচিত, কারণ এর পাতা শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

অ্যালোভেরা (Aloe Vera)
ঘরে বা অফিসে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার, যা বাংলায় ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত। এটি ঘরের মধ্যে থাকা কার্বন মনোঅক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড, ফর্মালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক টক্সিন শোষণ করে নেয়। একটি অ্যালোভেরা গাছ প্রায় নয়টি এয়ার পিউরিফায়ারের কাজ একাই করতে পারে। এছাড়াও, অ্যালোভেরা বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচার জন্য সেবন করা হয় এবং রূপচর্চাতেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

তুলসি (Holy Basil)
ঘরে বা অফিসের ভেতরে তুলসি গাছ রাখলে এটি ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে। শুধু তাই নয়, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে তুলসি গাছ ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে তোলে। এর ঔষধি গুণও সুবিদিত।

মানি প্ল্যান্ট (Money Plant)
বিশ্বাস করা হয় যে বাড়িতে বা অফিসে মানি প্ল্যান্ট রাখলে আর্থিক উন্নতি হয়। পরিশ্রমের পাশাপাশি অনেকে সৌভাগ্যের জন্য এই গাছটিকে বাড়িতে রাখেন। এই গাছটিও বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

স্পাইডার প্ল্যান্ট (Spider Plant)
এই গাছটির বিশেষত্ব হলো খুব কম আলোতেও এরা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে, ফলে অক্সিজেনের জোগান অব্যাহত রাখে। এটি স্টাইরিন, গ্যাসোলিন জাতীয় টক্সিন বাতাস থেকে শুষে নিতে সক্ষম। একটি স্পাইডার প্ল্যান্ট প্রায় ২০০ বর্গ মিটার এলাকার বাতাস পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারে।

স্নেক প্ল্যান্ট (Snake Plant/Sansevieria)
স্নেক প্ল্যান্ট টক্সিন শোষণ বা অক্সিজেন সরবরাহ তো করেই, সেই সঙ্গে রাতে ঘুমানোর সময়ও এরা অক্সিজেন নির্গত করতে থাকে। এর জন্য খুব বেশি আলো বা জলের প্রয়োজন হয় না এবং এটি সহজে মরেও না। তাই অফিস কিংবা ঘরের বেডরুমে রাখার জন্য এই গাছটি সব থেকে আদর্শ।

আপনার বাড়িতে বা অফিসে এই গাছগুলো রাখার মাধ্যমে আপনি কেবল সতেজ বাতাসই পাবেন না, বরং পরিবেশ রক্ষায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আপনি কোন গাছটি আপনার পছন্দের তালিকায় রাখছেন?