আলু নিয়ে বড় সঙ্কট আসছে বাজারে ? হিমঘরে আলুর পাহাড়, দাম না পেয়ে দিশেহারা চাষিরা!

পশ্চিমবঙ্গের আলুচাষিরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। হিমঘরে মজুত আলুর জন্য কেজি প্রতি মাত্র ৬-৭ টাকা দাম পাচ্ছেন তারা, অথচ একই আলু খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ টাকা দরে। এই বিশাল ফারাকের কারণে ব্যাপক লাভ করছেন ফড়ে ও বড় ব্যবসায়ীরা, আর মাঝখান দিয়ে চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। উৎপাদন খরচও না ওঠায় চাষিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলন করে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে বাজার দর এবং বিক্রি হওয়া আলুর দামে চাষিদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে, হিমঘরে যে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে রয়েছে, তার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়।
রেকর্ড পরিমাণ আলু মজুত:
চলতি বছর রাজ্যের হিমঘরগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ ৭০.৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু মজুত করা হয়েছিল। আলু উৎপাদনের ৬০:৪০ অনুপাতে বাজারে যায়, যার ৬০% রাজ্যের মধ্যে ব্যবহার হয় এবং বাকি ৪০% অন্যান্য রাজ্যে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু গত বছর আন্তঃরাজ্য আলু পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার কারণে, প্রায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আগের জাতের আলুও হিমঘরে সংরক্ষণ করা ছিল। এই অতিরিক্ত মজুতের কারণেই হিমঘরে আলুর রেকর্ড পরিমাণ মজুদ হয়েছে। এই মরসুমে হিমঘরে মজুত প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% আলু কৃষকদের নিজস্ব।
প্রতিশ্রুত ১৫ টাকা কই?
আলু ছাড়ার মরসুমে সরকার সর্বনিম্ন সহায়ক মূল্য ১৫ টাকা প্রতি কেজি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এই ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই দাম দ্রুত কমে আসে। হুগলি জেলার সিঙ্গুর পাইকারি বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি ১১ টাকায় নেমে আসে, এবং বর্ধমান, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর জেলা ও উত্তরবঙ্গের কোল্ড স্টোরেজ গেটে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকদের সরাসরি প্রতি কুইন্টালে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব:
যদি এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পান, তাহলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। ভবিষ্যতে এটি চাহিদা বনাম সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে।
পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী সুনীল কুমার রানা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পাইকারি ও খুচরা বাজারে আলুর দামের মধ্যে বর্তমান বৈষম্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং এটি সরাসরি কৃষকদের ক্ষতি করছে, যারা এই মরসুমে প্রায় ৮০% ফসল সংরক্ষণ করেছেন। আমরা সরকারের কাছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে আলু ক্রয়, আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য সহজ করা এবং মিড-ডে মিলের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আলুর ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।”
চাষিরা আশাবাদী যে, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ তাদের এই চরম আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি দেবে এবং আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে।