পাটনায় এনএসইউআই-এর বিক্ষোভ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে রাজপথে ধুন্ধুমার, জলকামান পুলিশের

বিহারের রাজধানী পাটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)। তাদের ‘বিধানসভা অভিযান’ ঘিরেই বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) রাজপথ থেকে বিধানসভা চত্বর পর্যন্ত উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে ব্যারিকেড ও জলকামান ব্যবহার করে।
কেন এই বিক্ষোভ?
এনএসইউআই-এর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এই অভিযোগ তুলে এনএসইউআই বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয়।
রাজপথে সংঘর্ষ, জলকামান পুলিশের
এনএসইউআই-এর কর্মীরা বিধানসভা অভিমুখে মিছিল শুরু করতেই পুলিশ তাদের পথ আটকায়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করে বিক্ষোভকারীদের আটকাতে চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু এনএসইউআই কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। জলকামান নিক্ষেপের ফলে অনেক বিক্ষোভকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও, অনেকেই নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন এনএসইউআই কর্মী আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি
এনএসইউআই-এর এই বিক্ষোভ বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, সরকার গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার হরণ করছে। অন্যদিকে, শাসকদল এই বিক্ষোভকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দাবি করেছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আইন মেনেই চলছে।
এই ঘটনা বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার চাপানউতোরকে আরও বাড়িয়ে তুলল। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।