বর্ষার ঘোর বিপদ সংকেত, দক্ষিণে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, নিম্নচাপের ভ্রুকুটি

ভ্যাপসা গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস করছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি স্বস্তি না দিয়ে বরং আর্দ্রতা বাড়িয়ে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে আলিপুর আবহাওয়া দফতর এক বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই বৃষ্টি কি আদৌ অস্বস্তি কমাতে পারবে? আবহাওয়া দফতর অবশ্য সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি।

ঘোর বর্ষার পূর্বাভাস ও নিম্নচাপের আগমন
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে। কয়েকদিনের রোদ ঝলমলে আবহাওয়ার পর এই নিম্নচাপের প্রভাবে আবারও তুমুল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বঙ্গের আকাশে দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে এনেছে।

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব
বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব রয়েছে ফিরোজপুর, কর্ণাল, মিরাট, বারাণসী, জামশেদপুর এবং দিঘা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব, যার কারণে দক্ষিণবঙ্গে প্রচুর বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর এই দুর্যোগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না।

দক্ষিণবঙ্গে ৪ দিনের লাগাতার বৃষ্টি, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা
উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রত্যাশিত নিম্নচাপ অঞ্চলের প্রভাবে, আগামী ২৪ থেকে ২৮ জুলাই তারিখের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ, বৃহস্পতিবার: দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি-বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়াও, দক্ষিণবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

শুক্রবার: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-২০ সেমি) হতে পারে। পাশাপাশি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হতে পারে।