জলপাইগুড়িতে রোগী মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র হাসপাতাল! ভুল ইঞ্জেকশনে গেল প্রাণ, ক্ষোভে জনতা

জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে ফের উত্তেজনা। পায়ে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর ‘ভুল ইঞ্জেকশন’-এর কারণে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মৃত নান্টু দে সরকারের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, জলপাইগুড়ি শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, পেশায় সাটারিং মিস্ত্রি নান্টু দে সরকার (বয়স উল্লেখ নেই) গতকাল রাতে পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এই ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই তার শরীর নিথর হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।
পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, রোগীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে না রেখে সরাসরি সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং ভুল ইঞ্জেকশন প্রয়োগের ফলেই নান্টু দে সরকারের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপ:
গতকাল রাতের ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আজ সকালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, যেখানে রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলে।
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:
মৃত নান্টু দে সরকারের পরিবার এই ঘটনায় কুলটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ঘটনার আলাদা করে বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনা জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরিবার ও আত্মীয়রা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পরই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।