প্রেমের ফাঁদে ফাঁসিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ ও সর্বস্ব লুঠ, বিহারে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত!

বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে এক মহিলাকে কুপিয়ে খুন এবং সর্বস্ব লুঠের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল বসিরহাট থানার মধ্যমপুর এলাকায়। অবশেষে এই নৃশংস খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ওই মহিলাকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মধ্যমপুরের ওই মহিলা বাড়িতে একাই থাকতেন। তার ছেলে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। দুদিন ধরে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ছেলে বাড়িতে এসে দেখেন বাইরে থেকে তালা দেওয়া। সন্দেহ হওয়ায় তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে কাপড় চাপা দেওয়া অবস্থায় ওই মহিলার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। ততক্ষণে দেহ থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল।

মৃত মহিলার ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বসিরহাট থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিহারে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হয়। এরপর বিহারের বিড়াল থানার পুলিশের সহযোগিতায় আব্দুল হাসান মোল্লা নামে ওই ব্যক্তিকে বিহারের বিড়াল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আজ তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

মৃত মহিলার পরিবারের দাবি, কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা গিয়েছিলেন। মহিলার কাছে অনেক টাকা পয়সা এবং গয়নাগাটি ছিল। অভিযুক্ত আব্দুল হাসান মোল্লা মৃত মহিলার পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর আব্দুল হাসান মোল্লা ছলনা করে ওই মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর সে মহিলার কাছে টাকা দাবি করতে শুরু করে। মহিলা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আব্দুল হাসান মোল্লা তার বাড়িতে আসে এবং তাকে ধর্ষণ করে। এরপর টাকা পয়সা ও গয়নাগাটি লুঠ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে কাপড় চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আব্দুল হাসান মোল্লার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, শহরের অন্য প্রান্তে আরও একটি প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রতারণার মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, জাল বেতন স্লিপ, জাল ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টসহ ভুয়ো নথি জমা দিয়ে ছয়টি পার্সোনাল লোন তোলা হয়েছিল। ঋণগ্রহীতারা নিজেদেরকে সেচ, স্বাস্থ্য ও বন দফতরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। মোট ৬২ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র মূলত বাঁকুড়া ও বর্ধমান এলাকা থেকে এই অপারেশন চালাত। এই কাজের সুবিধার জন্য তারা ব্যাঙ্কের নিযুক্ত কিছু DSA (Direct Selling Agent)-র সহায়তা নেয়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকা থেকে আকাশ ধীবর নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।