ওষুধ খেতে গিয়ে আইআইটি খড়্গপুরে পড়ুয়ার মৃত্যু, দেহ নিতে এসে হাহাকার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার

মাত্র কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে ফিরে এসেছিলেন আইআইটি খড়্গপুরের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র চন্দ্রদীপ পাওয়ার। বাড়িতে দীর্ঘ প্রায় দু’মাস থাকার পরে ফের পড়াশোনায় মন দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কে জানত, এই ফেরা হবে চিরতরে বিদায় নেওয়ার যাত্রা!

সোমবার (২১ জুলাই) রাতে হঠাৎ করেই খবর এল—চন্দ্রদীপ আর নেই। মাত্র ১৯ বছরের তরতাজা তরুণ, যিনি সন্ধ্যায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওষুধ খেতে গিয়ে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চন্দ্রদীপের পরিবার মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর বাবা জয়রাম পাওয়ার, এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী, যিনি নিজে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ছেলের ভবিষ্যতের জন্যই জীবনযুদ্ধে লড়ে চলেছিলেন তিনি। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন এই বাবা। নিজেই বলেন, “রাত ৯টায় ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনও সব ঠিক ছিল। এরপর কী এমন ঘটল!”

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রদীপ অসুস্থ বোধ করায় সোমবার দুপুরে আইআইটির বি সি রায় হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পরে সন্ধ্যায় ওষুধ খাওয়ার সময় সেটি তাঁর শ্বাসনালীতে আটকে যায় বলে জানা গিয়েছে। শ্বাসনালিতে ওষুধ আটকে গেলে শরীরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চিকিৎসকরা সিপিআর এবং লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা চালু করলেও শেষরক্ষা হয়নি।

আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধুরা চন্দ্রদীপকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে তাঁর প্রাণ বাঁচানো যায়নি। মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণ সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক, যা শ্বাসরোধজনিত চোকিং থেকে হয়েছে।

তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ঘটনাটি একটি চোকিংজনিত দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর রুম (ডি-৪০৮, জওহরলাল নেহেরু হল) সিল করা হয়েছে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের চোকিং সাধারণত দুটি কারণে হয়—আংশিক ও সম্পূর্ণ। চন্দ্রদীপের ক্ষেত্রে এটি একটি কমপ্লিট চোকিং ছিল, যেখানে শ্বাসনালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং অক্সিজেন পৌঁছায় না ফুসফুসে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তা মারণরূপ নিতে পারে।

শিক্ষা মহলে শোক
আইআইটি খড়্গপুরের পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকলেই বলছেন, চন্দ্রদীপ ছিলেন শান্ত, মেধাবী এবং পরিশ্রমী ছাত্র। তাঁর এমন অকাল মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই।

পরিবারে শোকের ছায়া
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে খড়্গপুরে পৌঁছান বাবা জয়রাম ও মামা। সেখান থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষ করে তাঁরা দেহ নিয়ে রওনা দেন মধ্যপ্রদেশের উদ্দেশে।

এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, কতটা সাবধানতা জরুরি ওষুধ গ্রহণ বা প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি, এত বড় প্রতিষ্ঠানে থেকেও যদি এভাবে একজন ছাত্র প্রাণ হারায়, তা হলে নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।