‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে দেবের স্পষ্ট বার্তা! জানালেন ‘আমি কাজ করি, কাদা ছোড়াছুড়ি নয়’

‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন কথার লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজের নীরবতা ভেঙে স্পষ্ট বার্তা দিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। বিতর্কের রেষারেষি ছেড়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য কথার ফুলঝুরি নয়, বরং বাস্তব কাজ। কোনও রাজনৈতিক চাপ বা সমালোচনার ভয়ে তিনি পিছু হটবেন না, বরং আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে ঘাটালের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
একথা বলতে গিয়ে দেব শুরুতেই বিনয়ের সুর ধরেন। তিনি বলেন, “আমি তো ঘাটালের প্রথম সাংসদ নই। আমার আগে অনেক গুণী ও অভিজ্ঞ নেতা এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুদাস গুপ্তের মতো সাতবারের সাংসদও ছিলেন। যদি এই ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ এত সহজসাধ্য হত, তবে তাঁদের আমলেই সেটা বাস্তবায়িত হয়ে যেত। আমি একা কিছু করতে পারি না, এটা একদিনে সম্ভবও নয়।” তাঁর এই কথায় এক স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, এই প্রকল্পের জটিলতা দীর্ঘদিনের এবং এর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।
জনপ্রতিনিধি না রাজনৈতিক নেতা?
দেবের কথায় উঠে আসে একজন সাধারণ মানুষের উপলব্ধি—যে কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুসমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক নেতা হতে চাই না। আমি নিজেকে একজন দায়বদ্ধ প্রতিনিধি মনে করি, যে নিজের কাজটা সততার সঙ্গে করে।” এই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন জনসেবকের ভূমিকা পালনের ইচ্ছাকেই তুলে ধরে।
ঘাটালের জলমগ্ন পরিস্থিতি, নদী বাঁধের সমস্যা এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি যে লোকসভায় বারবার সরব হয়েছেন, তার পরিসংখ্যানও তিনি ঘাটালবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। এমনকি, এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর নীরব কাজই তাঁর হয়ে কথা বলছে, এমনটাই যেন বোঝাতে চাইলেন সাংসদ।
সমালোচকদের প্রতি কড়া বার্তা:
যারা ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে লাগাতার সমালোচনায় মুখর, তাদের প্রতি দেবের বার্তা ছিল অত্যন্ত সোজাসাপটা। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি জানি, যারা কাজ করে, তারাই সমালোচনার শিকার হয়। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা অহেতুক কাদা ছোড়ে, তাদের সঙ্গে আমি পা মেলাতে চাই না। আমি কাদা ছোড়াছুড়ি করি না, আমি কাজ করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ যারা চিৎকার করছেন, তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কী করেছেন, তা ঘাটালের মানুষ জানেন। আমি শপথ নিয়েছিলাম, যতটা পারি মানুষের পাশে থাকব। তাই করে চলেছি। কেউ পাশে থাকুক বা না থাকুক, আমি আমার দায়িত্ব জানি এবং সেই মতোই কাজ করে যাব।”
দেবের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—তিনি রাজনীতির জন্য রাজনীতি করেন না। তাঁর লক্ষ্য মানুষের সেবা, এবং সেই কাজে যেন কেউ বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন। তাঁর মতে, “আজ যারা ফেসবুকে বসে ট্রোল করছেন, সমালোচনা করছেন, তারা মাঠে নেমে মানুষের কষ্ট জানেন না। আমি তাঁদের বলব, রাজনীতি করতে হলে আগে মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে কথা বলে কিছু হয় না।”
শেষে আবেগপ্রবণ দেব বলেন, “ঘাটাল আমার প্রাণ। এখানে আমি জন্মাইনি, কিন্তু এখানকার মানুষ আমাকে যেভাবে আপন করেছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমি জানি, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা জানেন আমি কী করি। তাঁরা জানেন বলেই আমি আছি। আর তাঁদের বিশ্বাসকেই আমি সম্মান করতে চাই কাজের মাধ্যমে।”
দেবের এই আত্মবিশ্বাসী এবং পরিশ্রমী বার্তা ঘাটালের রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, উন্নয়নের রাজনীতিতেই তাঁর বিশ্বাস—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেব প্রমাণ করলেন, তিনি এক ভিন্ন ধারার জনপ্রতিনিধি, যিনি রাজনীতিকে নিছক কেরিয়ার নয়, বরং মানুষের প্রতি এক পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করেন।