কুকুর কামড়ানোর রেকর্ড ২০২৪-এই ৩৭ লক্ষ পার, প্রাণ হারিয়েছে ৫৪! কেন্দ্রের চাঞ্চল্য রিপোর্ট

ভারতের শহুরে এবং গ্রামীণ জীবনে পথকুকুরের উপদ্রব এখন এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত ৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষকে কুকুর কামড়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এসপি সিং বাঘেল এই ভীতিকর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (NCDC)-এর অধীনস্থ ন্যাশনাল রেবিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (NRCP)-এর আওতায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসেব দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যানের ভয়ঙ্কর বাস্তবতা:

২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত (২৩শে জুলাই) ৩৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৬৬ জনকে কুকুর কামড়েছে। এদের মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু জলাতঙ্কের কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই সংখ্যাগুলি কেবল উপদ্রবের গভীরতাকেই তুলে ধরছে না, বরং গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ক্ষেত্রেই জনজীবনের নিরাপত্তার উপর এর মারাত্মক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দায়িত্ব এবং আইন:

প্রতিমন্ত্রী বাঘেল লোকসভায় জানান যে, পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌরসভাগুলির। পথকুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ‘অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ (ABC) চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ করা হয়। ১৯০০ সালের পশুদের উপর হিংস্র আচরণ প্রতিরোধে যে আইন (Prevention of Cruelty to Animals Act, 1960) রয়েছে, তার আওতায় ২০২৩ সালে ‘পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন’ (Animal Birth Control Rules, 2023) আনা হয়। এই নতুন আইনে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ এবং অ্যান্টি-রেবিজ টিকা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলেও:

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “বিষয়টি আর উপেক্ষা করা যায় না।” পথকুকুরদের নিয়ে যে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি একমত।

ভবিষ্যতের পথ:

এই পরিসংখ্যান এক গভীর জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেবল নির্বীজকরণ কর্মসূচিই নয়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং অ্যান্টি-রেবিজ ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে এই সমস্যা সমাধানে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভারতের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পথকুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।