“আমাকে কেউ সাহায্য করুন…”-চোখে জল, অসহায় আর্তি তনুশ্রী দত্তর, ভিডিও ঘিরে উদ্বেগে ভক্তমহল

“আমাকে কেউ সাহায্য করুন, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে”—এই আবেগঘন আর্তি নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে এলেন বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ইনস্টাগ্রামে নিজেই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তিনি। ভিডিওতে কান্নায় ভেঙে পড়া অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের বাড়িতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কিন্তু পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।

নিজের বাড়িতেই বন্দি, অভিযোগ অভিনেত্রীর
ভিডিওতে তনুশ্রী বলেন, “আমি আমার নিজের বাড়িতেই সুরক্ষিত নই। আমাকে বারবার হেনস্থা করা হচ্ছে। পুলিশকে ফোন করেছিলাম, তারা এসে বলেছে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে। আমি অসুস্থ, জানি না কবে যেতে পারব। আমার শরীর ভেঙে পড়েছে। ৪-৫ বছর ধরে এসব চলছে। আর সহ্য করতে পারছি না।”

তাঁর দাবি, পরিচারিকার আড়ালে অপরিচিত লোকজনকে তাঁর বাড়িতে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা জিনিসপত্র চুরি করছে, নজরদারি চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ তাঁর।

অতিরিক্ত শব্দের অভিযোগ, ‘মন শান্ত রাখতে হিন্দু মন্ত্র শুনি’
আরও একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তনুশ্রী, যেখানে অস্বাভাবিক জোরে কাটার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “২০২০ সাল থেকে রোজ এইরকম বিকট শব্দ শুনতে হয়। ছাদে, দরজার সামনে… সব জায়গা থেকে। বিষয়টা হাউজিং সোসাইটিকে জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখন আমি আর কিছু বলি না। মন শান্ত রাখতে শুধু হেডফোনে মন্ত্র শুনি।”

কে করছে এই হয়রানি? স্পষ্ট নন তনুশ্রী
তনুশ্রী এই অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিষয়টি বহুদিন ধরে চলমান। কারা এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছেন।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
তনুশ্রীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার বন্যা। কেউ লিখেছেন, “আপনার পাশে আমরা আছি।” আবার কেউ বলছেন, “এটা খুবই দুঃখজনক, থানায় অভিযোগ করাই শ্রেয়।” অনেকে আবার তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পটভূমি: তনুশ্রীর দীর্ঘ লড়াই
২০০৫ সালে ‘আশিক বানায়া আপনে’ ছবি দিয়ে বলিউডে প্রবেশ করেছিলেন তনুশ্রী দত্ত। তবে ২০০৮ সালে অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে শিরোনামে আসেন তিনি। ২০১৮ সালে #MeToo আন্দোলনের সময় সেই অভিযোগ ফের সামনে আনেন, যা বলিউডে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। যদিও পরে সেই মামলায় তিনি আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হন।

শেষ কথা
তনুশ্রীর এই খোলা আবেদন থেকে স্পষ্ট, তিনি চরম মানসিক চাপে রয়েছেন এবং সাহায্যের জন্য সমাজ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর এই অভিযোগ প্রশাসন কিভাবে গ্রহণ করে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর এখন গোটা দেশের।