OMG! ছাত্রদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে বেআইনি ফি আদায়, বিতর্কের মুখে প্রধান শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ভেদিয়া হাইস্কুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দ্বাদশ শ্রেণির যে সকল পড়ুয়ার ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি ছিল না, তাদের থেকে রসিদ ছাড়াই অতিরিক্ত ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছিল। এছাড়াও, একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এনরোলমেন্ট কপি তোলার জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
স্কুলে বর্তমানে ১,১৫০ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী জেলেখা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কন্যাশ্রী গ্রুপে জানিয়ে দেওয়া হয়, ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকলে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। অনেকে দিয়েছে। কিন্তু আমরা দিইনি। গরিব মানুষ, এত টাকা কোথা থেকে দেবো?” এই ধরনের বেআইনি ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, “যেখানে পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে আনার চেষ্টা করছেন, সেখানে অনুপস্থিতির জন্য জরিমানা আদায় করা রীতিমতো ফতোয়া!”
জেলা শিক্ষা দপ্তরের হস্তক্ষেপ:
ঘটনা সামনে আসতেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করে জেলা শিক্ষা দপ্তর। পূর্ব বর্ধমানের ডিআই (মাধ্যমিক) দেবু পাল এই বিষয়ে বলেন, “স্কুলের হেড স্যারকে শোকজ করেছি। বাড়তি টাকা নেওয়ার কারণ লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। উত্তর পেলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।”
টাকা ফেরত প্রক্রিয়া শুরু:
চাপের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই অন্তত ১২ জন পড়ুয়ার কাছে বর্ধিত ফি ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মিশ্র নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, “ভুল হয়ে গিয়েছে। আমরা টাকা ফেরত দিচ্ছি। ডিআই শোকজ করেছেন, তার উত্তর দেব সময় মতো।” তবে স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি অভিজিৎ বৈরাগী এই বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করে বলেছেন, “এমন সিদ্ধান্ত পরিচালন সমিতির অজান্তে নেওয়া হয়েছিল।”
এই ঘটনায় শিক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের পদক্ষেপের পর এই ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।