“বাংলায় কথা বললেই কি রোহিঙ্গা?”- ২১ শের মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরব মমতা

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভাষণের মূল সুর ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষা। সমাবেশের মাঝেই তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন, যা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
আজ, ধর্মতলায় অনুষ্ঠিত মেগা সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “দিল্লিতে পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” এই বার্তা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দেয় যে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিবাদ এবং সংগ্রাম আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি বারবার সরব হয়েছেন, এবং আজকের ভাষণ সেই অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করল।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন্দ্রকে কড়া প্রশ্ন:
নিজের ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও সরব হন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখানে নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে। সারা পৃথিবীতে রোহিঙ্গা কত? রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছিল, মোট ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে। বাকি কোথা থেকে এল?” এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মমতা বোঝাতে চেয়েছেন যে, কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে।
তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা আরও ইঙ্গিত দেন যে, বাংলায় কিছু মানুষকে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে রোহিঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “বাংলায় কথা বললেই তাঁরা রোহিঙ্গা?” এই উক্তি কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব নীতি এবং বাঙালি পরিচয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাষণ একদিকে যেমন দলীয় কর্মীদের মধ্যে আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য উদ্দীপনা জোগাবে, তেমনই অন্যদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণের ধার আরও বাড়াবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে দেওয়া তাঁর বার্তাগুলি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।