SPORTS: ডার্বির প্রস্তুতি তুঙ্গে, তবু বিতর্কের ঝড়! টিকিট বিক্রি শুরু, কোথায় পাবেন, জেনেনিন দাম?

এক সপ্তাহের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কল্যাণী স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ডার্বি। প্রস্তুতি তুঙ্গে, এবং চমক হিসেবে থাকছে দর্শক স্বাচ্ছন্দ্যের একাধিক উদ্যোগ। তবে টিকিট বণ্টন ও ভেন্যু নিয়ে দুই প্রধানের অসন্তোষ এখনো স্পষ্ট। আইএফএ’র ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে ডার্বির টিকিট বিক্রি, আর এবার স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন ১০ হাজার ফুটবলপ্রেমী।

আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, দর্শক স্বাচ্ছন্দ্যকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা যাতে সহজেই টিকিট কেটে মাঠে প্রবেশ করতে পারেন, তার জন্য শনিবার থেকে ‘ডিস্ট্রিক্ট বাই জোম্যাটো’ অ্যাপে অনলাইন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। এই অনলাইন টিকিটে থাকছে একটি QR কোড, যা স্ক্যান করেই সরাসরি মাঠে প্রবেশ করা যাবে – ফলে পুরনো দিনের টিকিট রিডিম করার ঝামেলা আর থাকছে না। এটি নিঃসন্দেহে ডিজিটাল যুগে এক নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

কল্যাণী স্টেডিয়াম সেজে উঠছে ডার্বির জন্য:

কলকাতার বাইরে ডার্বি আয়োজনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত কল্যাণী স্টেডিয়াম। দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ খাবারের স্টল, যেখানে বিক্রেতারা সরাসরি গ্যালারিতে গিয়ে খাবার সরবরাহ করবেন। পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকছে গ্যালারির নিচেই। মেডিক্যাল টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিটি গ্যালারিতে থাকবেন ডাক্তার, পাশাপাশি থাকছে অ্যাম্বুলেন্সের সুব্যবস্থা। দুই প্রধানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত এড়াতে গ্যালারিগুলোতে শক্তিশালী ফেন্সিং বসানো হচ্ছে, যাতে এক গ্যালারির দর্শক অন্য গ্যালারিতে যেতে না পারেন। ম্যাচের বিনোদনে যোগ করবে ঘরোয়া লিগের ম্যাসকট ‘গোপাল ভাঁড়’-এর উপস্থিতি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, দর্শকরা যাতে নিশ্চিন্তে খেলা দেখতে পারেন, তার জন্য থাকছে ডিপোজিট কাউন্টার, যেখানে হেলমেট, ব্যাগ ইত্যাদি রাখা যাবে।

তবুও অসন্তুষ্ট প্রধানরা: প্রশ্ন ভেন্যু ও টিকিট বণ্টন নিয়ে

আইএফএ’র এত উদ্যোগ সত্ত্বেও ডার্বির টিকিট বণ্টন এবং কল্যাণী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে খুশি নন দুই প্রধানের কর্তারা।

মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ডার্বিতে ক্লাবগুলোকে আরও বেশি টিকিট দেওয়া উচিত। এই ম্যাচটার দিকেই তো সবাই তাকিয়ে থাকে। প্রত্যাশা অনেক বেশি। কেন এই ম্যাচটা কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে না করে কল্যাণীতে নিয়ে যাওয়া হল? তা হলে আর ডার্বি ম্যাচ কেন, ডার্বি শব্দটা সরিয়ে এমনি ম্যাচ বললেই তো পারে। সাতদিন আগে যেখানে নিরাপত্তার অভাবে বাতিল হল ম্যাচটা, সাতদিন পর সেখানেই ম্যাচটা হচ্ছে? কল্যাণীতে এই ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।”

একইভাবে ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেছেন, “ডার্বিতে দুই ক্লাবকে এক হাজার করে টিকিট দেবে শুনেছি। সেটা যদি দু’হাজার হত তা হলে ভালো হত। এই ম্যাচে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। যদিও কল্যাণীতে খুব বেশি মানুষ স্টেডিয়ামে এসে খেলা দেখতে পারবে না। মাত্র দশ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারবে। সেটাও ঠিক।”

মোট ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মধ্যে দুই প্রধানকে ১ হাজার করে টিকিট দেওয়া হবে, এবং বাকি ৮ হাজার টিকিট অনলাইনে ও আইএফএ অফিস বেয়ারারদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এই সিদ্ধান্তেই ক্ষোভের জন্ম হয়েছে দুই ক্লাবের মধ্যে, কারণ ডার্বির টিকিটের চাহিদা সবসময়ই আকাশছোঁয়া।

সব মিলিয়ে, এক সপ্তাহের পিছিয়ে যাওয়া ডার্বি ঘিরে পারদ চড়ছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, দর্শক স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর, আবার অন্যদিকে ভেন্যু ও টিকিট বণ্টন নিয়ে প্রধানদের অসন্তোষ – সবকিছু মিলিয়ে কল্যাণীর ডার্বি হতে চলেছে এক মিশ্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী।