‘বীরভূম হবে বেঙ্গালুরু!’ দুর্গাপুরে মোদীর মেগা-শো, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিতেই যেন শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিহারে জনসভা থেকে বাংলার মাটি ছুঁয়ে, দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে তাঁর জোড়া কর্মসূচির কেন্দ্রে ছিল রাজ্যবাসীর জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন।
বাংলায় প্রবেশের আগে বিহারের মোতিহারিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী বাংলার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, “জয়পুরের মতো পর্যটনে উন্নয়ন হবে জলপাইগুড়িতে।” এমনকি, বর্তমানে জেলবন্দি বীরভূমের দাপুটে নেতা কেষ্ট মণ্ডলের এলাকাতেও ‘প্রভূত উন্নয়ন’-এর প্রসঙ্গ তুলে চমক দেন তিনি। ঘোষণা করেন, বীরভূমকে বেঙ্গালুরুর মতো করে গড়ে তোলা হবে। এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিরোধী পক্ষ প্রায়শই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তোলে।
শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ অন্ডাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দুর্গাপুরের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই মঞ্চ থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৫৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একগুচ্ছ পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার জন্য ‘নগর গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প’-এর শিলান্যাস, দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৩২ কিমি অংশের উদ্বোধন। এছাড়াও, পুরুলিয়া-কোটশিলা ৩৬ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইনের উদ্বোধন এবং ‘সেতু ভারতম’ প্রকল্পে তোপসি ও পাণ্ডবেশ্বর — এই দুই জায়গায় নির্মিত দু’টি রোড ওভার ব্রিজের উদ্বোধনও তালিকাভুক্ত ছিল। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রাজ্যে গ্যাস সংযোগ, পরিবেশ সচেতন বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রেল-সড়ক পরিকাঠামোয় এক বড়সড় অগ্রগতি ঘটবে।
সরকারি কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বিকেল পৌনে ৪টে নাগাদ প্রধানমন্ত্রী যোগ দেন রাজ্য বিজেপির রাজনৈতিক সভায়। প্রায় ৪৫ মিনিটের এই সভা ঘিরে দলের অন্দরেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত মেনে রাজ্য নেতারা এই সভায় ব্যাপক জনসমাগমের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, যা বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। এই সভাই স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল উন্নয়নমূলক নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বঙ্গসফর নিয়ে বাংলায় একটি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে মোদীর এই আগমন বিজেপি নেতৃত্বকে নতুন করে শক্তি জোগাবে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। একদিকে উন্নয়নের বার্তা, অন্যদিকে নির্বাচনী রণহুঙ্কার – দুর্গাপুরের মাটি থেকে মোদীর এই দ্বিমুখী কৌশল আগামী দিনের বাংলার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।