দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর হাই-ভোল্টেজ সভা, ‘বিশেষ চমক’ নিয়ে মোদী, বিজেপির সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে তৃণমূলের কটাক্ষ

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের শিল্পশহর দুর্গাপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামীকাল, শুক্রবার, নেহরু স্টেডিয়ামে তাঁর জনসভা ঘিরে বিজেপি রাজ্যজুড়ে এক অভূতপূর্ব তৎপরতা শুরু করেছে, যা এর আগের আলিপুরদুয়ার সফরের চেয়েও বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ সভা সফল করতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত দুর্গাপুরে ঘাঁটি গেড়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কটাক্ষ উড়ে এসেছে।
বিজেপির সর্বাত্মক প্রস্তুতি:
প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা সফল করার দায়িত্বে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসাল, যিনি গত এক সপ্তাহ ধরে দুর্গাপুরে একাধিক বৈঠক করেছেন। রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর মধ্যে দুর্গাপুর পৌঁছে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন।
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও উত্তরপূর্ব উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকেও এই সভার প্রস্তুতির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। তাঁর সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তিনি বেনাচিতি এলাকায় ঘুরবেন এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার জন্য নিমন্ত্রণ জানাবেন। ওই এলাকার ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করবেন, যাতে সকলে নেহরু স্টেডিয়ামের সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে আসেন।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র খাঁ, সৌমেন্দু অধিকারী, জ্যোতির্ময় মাহাতোর মতো রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও গত এক সপ্তাহ ধরে দুর্গাপুরে যাতায়াত করছেন এবং সভার প্রস্তুতি পর্বের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
যাত্রাপথে ‘বিশেষ চমক’:
আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী অন্ডাল থেকে দুর্গাপুরের সভাস্থলে হেলিকপ্টারে না গিয়ে সড়ক পথেই যাবেন। অন্ডাল থেকে সভাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তবে, তাঁর এই যাত্রাপথের শেষ তিন কিলোমিটার অংশে থাকছে এক ‘বিশেষ চমক’। জানা যাচ্ছে, এই শেষ তিন কিলোমিটার পথ তিনি গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে নাড়তে জনসংযোগ করবেন। এই অভিনব জনসংযোগ কৌশল সভার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের কটাক্ষ:
প্রধানমন্ত্রীর আগের আলিপুরদুয়ার সফরের তুলনায় দুর্গাপুরের সভা নিয়ে বিজেপির এই বাড়তি তৎপরতা তৃণমূল কংগ্রেসের নজরে এসেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে রীতিমত কটাক্ষ করা হয়েছে। যদিও কী ধরনের কটাক্ষ করা হয়েছে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিজেপির এই ‘অতি উৎসাহ’কে তারা রাজনৈতিক চাল হিসেবেই দেখছে।
আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুর্গাপুরের এই সভা বিজেপির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট। এই সভার মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করবে। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।