আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা! বোয়িং বিমানের জ্বালানি সুইচ তদন্তের নির্দেশ DGCA-র

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাছের একটি মেডিকেল কলেজ ভবনের উপর বিধ্বস্ত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিসহ ২৬০ জন নিহত হন। নিহতদের দেহ পুরোপুরি পুড়ে কয়লার মতো হয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা যায়নি, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ব্ল্যাক বক্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য: জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ!
দুর্ঘটনার পর মেডিকেল কলেজ ভবনের ছাদ থেকে বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিমানের দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিমানের কেবিনের ভয়েস রেকর্ডারে একজন পাইলটকে অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায়, “কেন জ্বালানি বন্ধ করলেন?” যার উত্তরে অন্যজন বলেন, “আমি বন্ধ করিনি।”

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে, পাইলট “মে ডে, মে ডে” বলে বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জরুরি বার্তা পাঠান। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই, উত্তর আসার আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এই প্রাথমিক তদন্তের পরেই ভারতীয় বিমান পরিবহন অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) নড়েচড়ে বসেছে।

ডিজিসিএ-র জরুরি নির্দেশ: ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ডিজিসিএ বোয়িং বিমান পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলিকে ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং মেকানিজম পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। ডিজিসিএ-র এই নির্দেশ বোয়িং ৭১৭, ৭৩৭, ৭৪৭, ৭৫৭, ৭৬৭, ৭৮৭ এবং ম্যাকডোনাল্ড ডগলাস এমডি-১১, এমডি-৯০ সহ বেশ কয়েকটি বোয়িং এবং ম্যাকডোনাল্ড ডগলাস বিমান মডেলের জন্য প্রযোজ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) কিছু বিমান মডেলে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং মেকানিজম আলগা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। বর্তমান দুর্ঘটনা সেই আশঙ্কাই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর তৎপরতা
বর্তমানে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই ডিজিসিএ-র নির্দেশ অনুযায়ী এই পরীক্ষা শুরু করেছে। আগামী ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করে ডিজিসিএ-কে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই দুর্ঘটনার কারণ আরও গভীরে তদন্ত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।